বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

‘তদন্ত শেষে শিক্ষাখাতে আ.লীগের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

‘তদন্ত শেষে শিক্ষাখাতে আ.লীগের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে’

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, তদন্ত ও যাছাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষাখাতে আওয়ামী লীগ আমলের শ্বেতপত্র প্রণয়ন ও প্রকাশের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এমন তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।


বিজ্ঞাপন


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থ বছর পর্যন্ত সময়ে শিক্ষাখাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যাতে ওই সময়কালে সম্ভাব্য অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাসমূহ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন করা যায়।

তিনি আরো বলেন, তদন্ত ও যাছাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে শ্বেতপত্র প্রণয়ন ও প্রকাশের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তদন্ত কার্যক্রমের পরিধি ব্যাপক হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়সীমা এই মুহূর্তে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল হাসনাতের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদের সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৪৪টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছে সাত হাজার ৭৪ জন।

আবুল হাসনাতের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে মাদরাসা কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আইটি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি মাদরাসার কারিকুলাম যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।


বিজ্ঞাপন


সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি মাদরাসায় কারিগরি ট্রেড চালু করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসাসমূহে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪৮টি মাদ্রাসায় ভোকেশনাল কোর্স চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো এক হাজার মাদরাসায় কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু করা হবে।

জয়পুরহাট-১ আসনের ফজলুর রহমান সাইদের প্রশ্নের জবাবে এহছানুল হক মিলন বলেন, এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে ও শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নীলফামারী-১ আসনের আব্দুস সাত্তারের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এক হাজার ৩২৭টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী মানদণ্ড সঠিক পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রংপুর-১ আসনের রায়হান সিরাজীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে ৮০ হাজার ৩২০টি আবেদন জমা রয়েছে। এর বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ নয় হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। যার জন্য প্রায় সাত হাজার ১৭৬ কোটি টাকা প্রয়োজন।

সরকার চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে প্রায় ২০ হাজার ৫০০টি আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ খাতে দুই হাজার ৪৬২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ছয় হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে আরো প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ জন শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা প্রদান করা সম্ভব হবে। কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রতি বছর ১৮০ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে।

যশোর-৪ আসনের গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমানে (জুন ২০২৩ হতে এপ্রিল ২০২৬) ৪২ হাজার ৪০৭টি আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে, যা নিষ্পত্তির জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক আয় প্রায় ৬৬০ কোটি টাকা হলেও বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। এ জন্য বছরে প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ঘাটতি হচ্ছে। এ কারণে আবেদন নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে।বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ ৭৭ হাজার ২২৭টি। 

মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে ই-রিকুইজিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারাদেশে ৭৭ হাজার ২২৭টি শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব শূন্যপদ পূরণের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। পর্যায়ক্রমে যোগ্য প্রার্থীদের মাধ্যমে পদসমূহ পূরণ করা হবে।

কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমান সরকার দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গুণগত মান পুনরায় প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বাগেরহাট-৪ আসনের আবদুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আট হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসা রয়েছে। এক হাজার ৯২৩টি বিএম কলেজ রয়েছে।

বগুড়া-৪ আসনের মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার জন্য কড়াইল বস্তিসহ ৫৮টি সাইট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব চিহ্নিত এলাকায় সরকারি/বেসরকারি উদ্যোগে এক লাখ ফ্ল্যাট নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সংস্থান করা হবে।

এমএইচএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর