আমদানি-রফতানির জন্য বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, ইরান তা নিশ্চিত করবে বলে জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি আজারবাইজান হয়ে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতেও সহায়তা করেছে দেশটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে- এমন কোনো কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে দৃঢ় অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ বিশেষভাবে প্রচার করার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এই সাক্ষাৎকারগুলো নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দূতাবাস বলেছে, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তারা আরও উল্লেখ করেছে, এ ধরনের ভুল ও খণ্ডিত বক্তব্য উপস্থাপন দুঃখজনক এবং দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের নীতির পরিপন্থী।
দূতাবাস বলেছে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কে রয়েছে। সেই সঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি ইরান তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খতিবজাদেহর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে দূতাবাস।
তারা জানিয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগগুলো তারা আন্তরিকভাবে এগিয়ে নেবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করবে।
সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেছে ইরান। এ অঞ্চল ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এই পথটি অপরিহার্য বলে মনে করে দেশটি।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ‘ইসলামি বিপ্লবের নেতা’ ও ‘মুসলিম উম্মাহর নেতা’ উল্লেখ করে তিনি নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দূতাবাস।
বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টিকে একটি উল্লেখযোগ্য ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার ইরান দূতাবাসে রক্ষিত শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতির জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছে ইরান।
বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সমর্থনের প্রশংসা করে ইরান বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী শাসকের অবৈধ আগ্রাসনের’ ফলে সৃষ্ট যুদ্ধে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের জন্য তারা গভীর শোক প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অনুমতি না পেয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না বলে জানা যায়।
এরপর গত রোববার রাতে তুরস্কে এক বৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদহকে ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে হরমুজ প্রণালি নিরাপদে পার হতে সহায়তার অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
এএইচ



