ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার বা কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। গতকাল রোববার ‘তৌস্কা’ নামের সেই জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জানিয়েছে সেন্টকম।
গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ওমান উপসাগরের উপকূলে ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে তৌস্কাকে জব্দ করে সেন্টকম। ইরানের সরকারি জাহাজ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইন্স (আইআরআইসিএল) জাহাজটির স্বত্তাধিকারী। আইআরআইসিএল-কে ২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিজ্ঞাপন
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগরে তৌস্কাকে শনাক্ত করার পর প্রথমে সেটিকে থামার জন্য সংকেত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তৌস্কা’র ক্রুরা সেই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
তৌস্কার ক্যাপ্টেন এবং অন্যান্য ক্রুরা সবাই মার্কিন বাহিনীর হেফাজতে আছেন। জাহাজটিতে কত জন ক্রু ছিলেন— তা জানায়নি সেন্টকম। এই ক্রুদের সবাই ইরানের নাগরিক না-কি অন্য কোনো দেশের নাগরিকও তাদের সঙ্গে আছেন— তাও এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরানের সরকারি জাহাজ সংস্থা আইআরআইএসএল নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরআইএসএলের জাহাজগুলোর ক্যাপ্টেন-ক্রুর পদে সাধারণত ইরানের নাগরিকরাই থাকে, তবে এর বাইরে পাকিস্তান থেকেও ক্রু নেওয়া হয়।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তৌস্কাতে প্রাথমিক তল্লাশি চালিয়ে সেনাবাহিনীতে ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য’ জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। তবে সেসব কী— তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেন্টকমের অপর একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাহাজটিতে ধাতু, পাইপ, ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ বেশ কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যেগুলো সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহারযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইনম্যাক্সের বরাতে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ তৌস্কা-কে চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী সাংহাইয়ের উত্তরে তাইক্যাং বন্দরে দেখা গিয়েছিল। তারপর মার্চের ২৯ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত চীনের গাওলান বন্দরে কিছু কন্টেইনার লোড করে তোস্কা; ৩০ মার্চ সেটি গাওলান থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ১১ এপ্রিল মালয়েশিয়ার ক্লাং বন্দরে নোঙ্গর করে। সেখান থেকে আরো কিছু কন্টেইনার লোড করার পর ইরানের চাবাহার বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয় তৌস্কা।
তৌস্কা-কে জব্দের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার এক বিবৃতিতে জাহাজটি জব্দের ঘটনাকে ‘বলপ্রয়োগপূর্বক আটকে দেওয়া’ উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবিৃতিতে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীও জাহাজটি এবং ক্রুদের ছেড়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আইআরজিসি জাহাজ জব্দের এই ঘটনাকে ‘ডাকাতি’ উল্লেখ করে জানিয়েছে, তারা এই প্রকাশ্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু জাহাজটিতে ক্রুদের পরিবারের সদস্যরা থাকায় সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। জাহাজটিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি।
সূত্র: রয়টার্স
এফএ




