বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিক ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করল।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কঠোর পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট ‘পার্সোনেল অথোরাইজেশন’ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন।
বিজ্ঞাপন
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই দীর্ঘ যাত্রায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়াকে দেশের জ্বালানি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর ক্লাবে পূর্ণ শক্তিতে আবির্ভূত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফুয়েল লোডিং শুরু হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যেই এই ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালানো হবে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম ইউনিটের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন শুরু করা সম্ভব হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এই অগ্রগতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
কার্বনমুক্ত ও টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি হবে দেশের প্রধান ভিত্তি। লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এফএ




