জ্বালানি খাতে কার্যকর সমন্বয় বাড়াতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘জ্বালানি সংকট এবং পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নগরায়ন ও উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
এসময় উপস্থিত ছিলেন- ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, ট্রাফিক অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ফোরামের সভাপতি গবেষক সাজিদুল হক পাভেল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাদুর রেজা প্রমুখ।
অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘বর্তমান জ্বালানি ও পরিবহন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা দেশকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে রেল ও নৌপথভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ফিরে যেতে হবে এবং একটি টেকসই মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। জ্বালানি খাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী বিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে একটি ইন্টিগ্রেটেড রিজিওনাল এনার্জি প্ল্যানিং সেল গঠন সময়ের দাবি।’
আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এনার্জি ডিমান্ড ম্যাপিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় জ্বালানির চাহিদা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি, যা একটি বৈষম্য তৈরি করছে। এই বৈষম্য কমাতে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের মতো বিদ্যুৎ বরাদ্দেও বৈষম্য রয়েছে, যা দেশের উন্নয়নকে এককেন্দ্রিক করে তুলছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে তথ্যনির্ভর পরিকল্পনা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।’
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি রূপান্তরের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সোলারসহ বিকল্প জ্বালানির উৎসে অর্থায়ন বাড়াতে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা কাজে লাগানো যেতে পারে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে কর-সুবিধা ও ভর্তুকি প্রদান এবং গ্রামীণ পর্যায়ে মাইক্রোফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সৌর প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন।’
বক্তারা কমিউনিটি ও পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে নগর, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ পরিকল্পনার সঙ্গে জ্বালানি বিষয়কে সমন্বিত করতে হবে এবং শিক্ষা কারিকুলামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত রেখে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে এখনই সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
এএইচ/এমআই




