জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে দেশের উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের জনগণ এখন দ্বিমুখী সংকটের মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইকুইটি বিডি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগের কথা জানান কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করীম চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘এসব অঞ্চলের মানুষের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন ন্যায্যতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের পরিসংখ্যান দিয়ে বাস্তবতা আড়াল করা যাবে না, যদি তা মানুষের জীবনে কার্যকর পরিবর্তন না আনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চরাঞ্চলে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও নিরাপদ মাতৃসেবা কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি ধাত্রীদের আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স, ভাসমান ক্লিনিক ও মোবাইল মেডিকেল টিম চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।’
বক্তারা জানান, চরাঞ্চলে বসবাসরত প্রায় এক কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ ও সীমিত স্বাস্থ্যসেবার কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। দুর্যোগের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তারা চিকিৎসা সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হন। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দক্ষ জনবলের অভাব ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট তাদের ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত করছে।
বিজ্ঞাপন
তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় যদি চরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না যায়। আসন্ন বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা “চর স্বাস্থ্যখাত” শিরোনামে বাজেট বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়।
তারা জোর দিয়ে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ সময়মতো চিকিৎসাসেবা পেতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক অধিকার- এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।
এম/এমআই




