ভোরের রাঙা সূর্য আর রমনার বটমূলে ছায়ানটের সেই চিরচেনা সুর—১৪ এপ্রিল ২০২৬, পহেলা বৈশাখ। আজ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আবাহনে মেতেছে পুরো বাংলাদেশ। ইটপাথরের যান্ত্রিকতা ছাপিয়ে আজ রাজপথ থেকে শুরু করে গ্রামের মেঠোপথ, সর্বত্রই ধ্বনিত হচ্ছে—‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’। এ দিনকে ঘিরে যে যার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এই যেমন নারায়নগঞ্জের পাগলা থেকে এসেছেন নারায়ন চক্রবর্তী। সাথে এসেছে তার স্ত্রী, শ্যালক ও শালিকা। রমনায় তাদের নিয়ে ঘুরবেন বলে সকাল ১১ টায় রওনা হয়ে ১২ টায় পৌঁছেছেন গুলিস্তান। সেখান থেকে সরাসরি রমনা পার্কে এসে ঘুরতে শুরু করেছেন। লেকের পূর্ব পাশে সবুজ মাঠে তাদের নিয়ে ঘুরছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নারায়ন বলছিলেন, আজকের দিনটাই তো ঘোরাঘুরি করার। নারায়ণগঞ্জেও অনেক জায়গা আছে কিন্তু রমনায় আসব বলে গত সপ্তাহ থেকে প্ল্যান করছিলাম।
শুধু নারায়ন নয়, তার মতো কেউ এসেছেন উত্তরা, আশুলিয়া, সাভার, পুরান ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে। শুধু রমনার পার্কে ঘুরবেন বলে। সবুজ, জয়ন্ত, আনোয়ার, শুভ্র এসেছেন সাভার থেকে। তারা জানালেন, সবাই তারা গার্মেন্টস শ্রমিক। আজকের দিনে ছুটি পেয়ে ঘুরতে এসেছেন।
শুভ্র বলছিলেন, সারা বছর তো কাজেই ডুবে থাকি। আজ ছুটি পেয়েছি সারাদিন ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরব। গত এক যুগ থেকে সাভারে থাকি কিন্তু রমনায় আডব আসব করে আসা হয়নি। এবার এসে খুব ভালো লাগছে।
তিনি আরো বলছিলেন, রমনায় এত মানুষ, এত অনুষ্ঠান দেখে তো খুব ভালো লাগছে। আগে শুধু শুনতাম। কিন্তু আজ স্বচক্ষে দেখলাম। কে বলেছে ঢাকায় সবুজ পার্ক নাই! এই রমনা তো সবুজে ভরা।
রমনায় আসা দর্শনার্থীদের অধিকাংশ নারী, যুবক, উঠতি তরুণ তরুণী। এছাড়াও এসেছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষজন।
সকালে যারা এসেছেন তারা উপভোগ করেছেন রমনার বটমূলের আয়োজন। কিন্তু তারা পারেনি তারা এখন সকাল ১০ টা শুরু হওয়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজন উপভোগ করছেন।
রামপুরা থেকে সকাল ১০ টায় এসে রমনা পার্কে ঘুরছেন লিটন সরকার। তিন ছেলে মেয়ে, বোন, স্ত্রী নিয়ে ঘুরছেন তিনি। দুপুর পৌনে একটার দিকে রমনার পূর্ব দিকে এসে তাদের নিয়ে সবুজ মাঠের বুকে চলা বাউল অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।
তিনি বলছিলেন, আমরা সকাল থেকে ঘুরছি। কিন্তু দুুই ভাই বোনের মাঝে কোনো ক্লান্তি নাই। বৌ বাচ্চারা তো ঘুরতে পারে না। বাচ্চাগুলো ঘরে সারাক্ষণ বন্দী থাকে। এখানে এসে তারা যেনো স্বর্গ পেয়েছে। হাত ধরে ঘোরাতে চাইলেও দিচ্ছে না। তারা নিজেরাই নিজেদের মতো করে ঘুরছে।
লিসা ও রিয়া দুই বান্ধবী এসেছেন মিরপুর থেকে। কানে একজন গুছেছেন ফুল। আরেকজন তুলছেন সেলফি। দুজনে জড়াজড়ি করে ছবি তুলছেন।
রিয়া বলছিল, মাকে বলে এসেছি আজ সারাদিন ঘুরব। যেহেতু প্রেমিক নেই ফলে আমার বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরছি।
ছোট শিশু রিয়াজের গালে শুভ নববর্ষ লিখিয়ে দিয়ে রঙ করাচ্ছেন মা ফারজানা। তিনি বলছিলেন, ছেলের তো আজ খুশির দিন। গত রাত থেকে বলছিল মা আমরা ঘুরতে যাব। এখানে এসে তো সে মহাখুশি। অনেকে গালে শুভ নববর্ষ লিখে ঘুরছে সেও নেবে। তাই রং করিয়ে নিলাম।
এমআইকে/এআরএম




