রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

অনলাইন জুয়া কেড়ে নিল তরুণের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

অনলাইন জুয়া কেড়ে নিল তরুণের প্রাণ
ছেলেকে হারিয়ে ঢামেক মর্গের সামনে বাবার আহাজারি, ডানে নিহত ছেলে। ছবি: ঢাকা মেইল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে এক মা আর্তনাদ করে বললেন, ‘এই অনলাইন জুয়াটা কারা আবিষ্কার করল? খেটে খাওয়া মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে নিঃস্ব করে দিল।’

তার ছেলে আসিফ হোসেন (২০) অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে গত ৫ দিন আগে বিষপান করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি মারা যান। দিনমজুরের কাজ করা আসিফ অনলাইনে জুয়া খেলে ২ হাজার টাকা হারিয়ে বিষপান করেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

নিহত আসিফ যশোরের কোতয়ালী থানার শ্যামনগর গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে।

বাবা আনিসুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘চার সন্তানের মধ্যে আসিফ দ্বিতীয়। তার দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কম ছিল। মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর আর লেখাপড়া করেনি আসিফ। গ্রামে ক্ষেত-খামারে কাজ করত। সেই কাজের টাকা জমিয়ে সে একটি স্মার্টফোন কেনে। এরপর ফোনে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। কাজের পুরো টাকা জুয়ায় খুইয়ে ফেলত।’

আনিসুর রহমান আরও বলেন, ‘পাঁচ দিন আগে হঠাৎ বিষপান করে। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার ঢাকায় আসতে বলেন। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসার পর চিকিৎসা চলছিল। আজ সকালে আমার ছেলে চলে গেল।’

বাবার কথায়, আসিফ বিষপানের পর জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, ‘বাবা, আমি অনলাইন জুয়ার নেশা ছাড়তে পারতেছি না। যত চেষ্টা করি, ততই আসক্ত হচ্ছি।’ একপর্যায়ে বকাবকি করে বাবা মোবাইল ভেঙে ফেলতে বলেন। কিন্তু কোনো কথা শোনেনি আসিফ।

মা শিউলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সম্প্রতি কাজ করে আসিফ ৬ হাজার টাকা পায়। অনলাইন জুয়ায় সেসব টাকা খেলে শেষ পর্যন্ত ২ হাজার টাকা হেরে যায়। সেই অভিমানেই সে বিষপান করে।

নিহতের মা আরও জানান, ছেলে তাকে বলেছিল, ‘মা, অনেক চেষ্টা করেও অনলাইন জুয়ার ব্ল্যাকমেইল থেকে বের হতে পারিনি, তাই বিষপান করতে বাধ্য হয়েছি।’

শিউলি বেগম প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যারা এই জুয়া আবিষ্কার করেছে, খেটে খাওয়া মানুষের ওপর এ জুলুম থামাতে সরকার কি ব্যবস্থা নিতে পারে না?’

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে আসিফ মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

একেএস/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর