মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সারাদেশে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস চলে। এছাড়া জরুরি সেবা ছাড়া সব বিপণিবিতান (মার্কেট), অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সপ্তাহে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এছাড়া শুক্র ও শনিবার (২ দিন) সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সময়সূচিতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস চলবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জরুরি পরিষেবাগুলো নতুন অফিস সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের শনিবারের পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জরুরি পরিষেবা বলতে সাধারণত বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং এ-সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মী, হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম ইত্যাদিকে বোঝোনা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আদালতের অফিস সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতের শিল্প-প্রতিষ্ঠান/কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ব্যাংকের লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত
ব্যাংকের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামীকাল থেকে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত পরিবর্তিত অফিস সময়সূচি অনুসারে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রোববার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস চলবে। আর ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বলবৎ থাকবে।
তবে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংকের শাখা, উপশাখা এবং বুথ আগের মতো ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।
বিপণিবিতান, অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়
সরকারের সিদ্ধান্ত হলো জরুরি সেবা ব্যতীত সব বিপণিবিতান (মার্কেট), অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে দোকান ও শপিং মল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা রাত আটটা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলার দাবি জানান। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই দোকান ও শপিং মল বন্ধের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে জুনে আবার স্বাভাবিক সময়ে, অর্থাৎ নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অফিস করা হয়। এখন বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে আবার অফিস সময় এক ঘণ্টা কমল।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে গতকাল শুক্রবার তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামীকাল রোববার স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া। যার মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, অর্থাৎ এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকেরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস হবে সশরীর।
তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
ক.ম/

