ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার শিশুদের ঈদ আনন্দে মুখরিত হয়েছে রাজধানীর শ্যামলীর শিশু মেলা। সকাল গড়াতেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসতে শুরু করেন নগরবাসী। নতুন পোশাক পরা শিশুদের উচ্ছ্বাস, চঞ্চলতা আর হাসিখুশিতে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নগরজীবনের একঘেয়েমি আর ব্যস্ততার মাঝে এই মেলাই যেন শিশুদের জন্য হয়ে ওঠে আনন্দের এক মুক্ত প্রাঙ্গণ।
মেলায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে রঙিন সাজসজ্জা, ব্যানার, বেলুন আর শিশুদের জন্য তৈরি বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড। নাগরদোলা, মিনি ট্রেন, ঘোড়ার গাড়ি, বাম্পার কার, বাউন্সি ক্যাসল সবকিছুতেই শিশুদের ভিড়। প্রতিটি রাইডের সামনে লম্বা সারি, তবে অপেক্ষা যেন আনন্দেরই অংশ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। এক রাইড থেকে নেমেই আরেক রাইডে ওঠার জন্য শিশুদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
বিজ্ঞাপন
মেলায় ঘুরতে আসা অভিভাবকরা জানান, ঈদের দিনে সন্তানদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতেই হয়। বিশেষ করে এমন একটি জায়গা, যেখানে নিরাপদ পরিবেশে শিশুরা খেলতে পারে, সেটি তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম বলে, ‘আমি আজ নাগরদোলা আর বাম্পার কারে উঠেছি। খুব মজা লাগছে। আমি বিকেল পর্যন্ত এখানে থাকব।’
বিজ্ঞাপন
সায়েমের মা রোকসানা বেগম বলেন, ‘শিশুরা সারা বছরই পড়াশোনা আর বাসার মধ্যে থাকে। ঈদের সময় তাদের একটু আনন্দ দিতে এখানে নিয়ে আসি। ওদের খুশিই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।’
ছোট্ট মেয়ে তানহা তার বাবার হাত ধরে ট্রেন রাইডের লাইনে দাঁড়িয়ে। বলছিল, ‘আমি ট্রেনে উঠব, তারপর ঘোড়ার গাড়িতেও উঠব।’ তার বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় শিশুদের জন্য খোলা বিনোদনের জায়গা খুব সীমিত। তাই এমন আয়োজনগুলো আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান। এখানে এসে অন্তত কিছুটা সময় নির্ভারভাবে কাটানো যায়।’
শিশু মেলার বাইরে খাবারের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা যায়। ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিম, কটন ক্যান্ডি শিশুদের পছন্দের নানা খাবার কিনে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। অনেক শিশুকে দেখা যায় হাতে বেলুন, খেলনা বা রঙিন সামগ্রী নিয়ে আনন্দে মেতে থাকতে।
মেলায় দায়িত্ব পালনরত এক কর্মী বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীর চাপ অন্যান্য দিনের তুলনায় খুবই বেশি। সকাল থেকেই অনেক মানুষ আসছেন। বিকেলের দিকে ভিড় আরও বাড়ে। আমরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়োজিত আছি।’
এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবেশপথে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। শিশুদের হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিবারগুলো যেন স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারে, সে দিকটিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
শিশুদের হাসি, দৌড়ঝাঁপ আর আনন্দঘন মুহূর্তে দিনভর সরব থাকে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। কেউ নাগরদোলার চূড়ায় উঠে শহর দেখছে, কেউ আবার বাউন্সি ক্যাসলে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঈদের এই বিশেষ দিনে শ্যামলীর শিশু মেলা শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং পরিবারগুলোর জন্য হয়ে ওঠে মিলনমেলা। ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি ভুলে কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ এনে দেয় এই আয়োজন। আর শিশুদের জন্য তৈরি করে স্মরণীয় আনন্দময় মুহূর্ত।
এম/ক.ম

