মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

বাড়তি ভাড়ার তথ্য নেই মন্ত্রীর কাছে, পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

বাড়তি ভাড়ার তথ্য নেই মন্ত্রীর কাছে, পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীদের
বাড়তি ভাড়ার তথ্য নেই মন্ত্রীর কাছে, পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীদের। ছবি: ঢাকা মেইল

পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি ঘিরে রাজধানী ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়েছে। ছুটির প্রথম দিনেই মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে নেমেছে যাত্রীদের ঢল। সকাল থেকেই টিকিটের জন্য লম্বা লাইন, বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ এবং যানবাহনের অবিরাম চলাচল পুরো টার্মিনাল এলাকা ব্যস্ত নগরচিত্রে পরিণত করেছে।

মাঠপর্যায়ে যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক বাস নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। ময়মনসিংহগামী আবদুল মালেক বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে। কাউন্টারে জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, ঈদের সময় ভাড়া একটু বেশি। বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট নিতে হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ থাকলেও নেই যানজটের ভোগান্তি

রাজশাহীগামী মদিনা ট্রাভেলসের যাত্রী মর্জিনা আক্তার বলেন, অতিরিক্ত মূল্য টিকিটে লেখা হয় না। অনেককেই শুধুমাত্র সিট নম্বর দিয়ে ফাঁকা টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার কাছ থেকে ৭০০ টাকার ভাড়া ১২০০ টাকায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আগে সাত দিন আগে টিকিট কেটে রেখেছিলেন। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বগুড়াগামী সেলিনা আক্তার। পরিবার নিয়ে যাত্রা করতে গিয়ে বাড়তি খরচ মেনে নিতে হচ্ছে, তবু ঈদে বাড়ি যাওয়ার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা এই খরচ মেনে নিচ্ছেন।

2

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় কিছু ক্ষেত্রে ‘বিশেষ সার্ভিস’ বা অতিরিক্ত সুবিধার কথা বলে বেশি টাকা নেওয়া হতে পারে। তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়া অতিক্রমের কোনো নজির গত সাত দিনে পাওয়া যায়নি, জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, পরিবহন মালিকরা খুশি হয়ে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নিচ্ছেন। যাত্রী আকৃষ্ট করতে যদি সরকারি ভাড়া ৭০০ টাকা হয়, তারা ৬০০ টাকা নিচ্ছেন, আবার কেউ কমিয়ে ৬৮০ টাকা নিচ্ছেন। নির্ধারিত ভাড়া অতিক্রমের কোনো নজির নেই।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, এক টাকাও বাড়তি নেওয়ার সুযোগ নেই। যাত্রী অভিযোগ করলে মোবাইল কোর্ট, ভিজিলেন্স টিম এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা তৎপর আছি।

ভোর ৫টা থেকেই একের পর এক দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রী চাপ বেশি থাকায় বাসগুলো সিট পূর্ণ হলে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বাস ছাড়তে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী বাসের কাউন্টারগুলোর সামনে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকেই ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েছেন বা লাগেজের ওপর বসে অপেক্ষা করছেন।

3

রাজশাহীগামী এবং নেত্রকোনাগামী যাত্রীরা বাসের নির্ধারিত সময়সূচি নিয়ে অভিযোগ করেছেন। সকাল ৯টার বাসের টিকিট কেটে নিয়েও পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবদুল হাদী। নেত্রকোনাগামী রুবেল হোসেনও জানিয়েছেন, সকাল ৭টার বাস ধরা সত্ত্বেও দুপুর ১টার আগে বাস ছাড়েনি। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং দেরিতে চলাচল করা যাত্রীদের জন্য ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জ্বালানি সংকটকে দায়ী করেছেন। একতা পরিবহন ট্রান্সপোর্টের বাসচালক মনির হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়েই বাস ছাড়ার প্রস্তুতি থাকে, কিন্তু ডিপোতে তেল পেতে দেরি হওয়ায় গাড়ি দেরি করে ছাড়ে। এতে যাত্রী ও চালক উভয়ই চাপের মধ্যে পড়েন।

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রা: সেই চিরচেনা রূপে সদরঘাট

ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের কাউন্টার ইনচার্জ মো সজিব বলেন, বাসের সিট পূর্ণ হলে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালে বাসের সংকট নেই, তবে যাত্রী চাপ বেশি। পরিবহন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাময়িকভাবে জ্বালানি সরবরাহে বিলম্ব হলে সময়সূচিতে কিছু বিঘ্ন ঘটে, যা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে।

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে অনেকেই ছুটির আগের দিন থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন। মহাখালীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে শেষ মুহূর্তের ভিড় ও যানজট এড়াতে আগাম যাত্রার প্রবণতা বেড়েছে।

5

মহাখালী টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়। তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আলতাব হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকি কার্যক্রমও চালু রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অসমীয়া জায়গীরদার বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক পরিবেশে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া, টিকিটে অনিয়ম বা যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

6

তিনি আরও বলেন, টার্মিনালের ভেতরে ও বাইরে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এএইচ/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর