জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে গেছে। এ চুক্তির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের নাম প্রকাশ করে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কেন বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক” শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
বিজ্ঞাপন
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়েছিলেন। যদি সেই অঙ্গীকার সত্যিই বিশ্বাস করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। একই সঙ্গে চুক্তিতে যারা সই করেছেন, তাদের নাম প্রকাশ করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের আগ্রহ ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে কেন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা হলো, সেটি বড় প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।’
আলোচনায় তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে চুক্তির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে শ্রমিকদের প্রতিবাদের কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সে সময় এ বিষয়ে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সক্রিয় ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।’
বিজ্ঞাপন
আদালতের প্রসঙ্গ টেনে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এখন আদালতের কিছু রায় দেখে বিস্ময় লাগে। মনে হয় যেন সরকারের ইচ্ছা আদালত আগে থেকেই বুঝে ফেলে এবং সে অনুযায়ী রায় দেয়। কীভাবে এটি সম্ভব হচ্ছে, সেটি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’
তিনি দাবি করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে এবং নতুন করে বড় ধরনের বেকারত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কর কাঠামোর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।’
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলো কার্যকর কোনো নিন্দা জানায়নি। বৈশ্বিক সংকটে জাতিসংঘের ভূমিকাও প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে বিশ্বব্যবস্থায় নতুন করে ঔপনিবেশিক মনোভাবের প্রকাশ ঘটছে বলে মনে করেন তিনি।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা দাবি জানাই, এই চুক্তিতে যারা সই করেছেন তাদের নাম প্রকাশ করে বিচার করতে হবে।’
আরও পড়ুন: শিশু প্রহরে মুখর বইমেলা প্রাঙ্গণ
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- লেখক ও গবেষক ড. গোলাম রসূল। আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহা মীর্জা।
এমআর/এমআই
