রাজধানীর বইমেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের কোলাহলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ‘শিশু প্রহর’। প্রতি বছর ছুটির দিনে নির্দিষ্ট সময় শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় মেলার এই বিশেষ পর্ব, যেখানে ছোট পাঠকরা স্বাচ্ছন্দ্যে বই দেখা ও কেনার সুযোগ পায়।
সকালের দিকে মেলায় ঢুকেই দেখা যায় রঙিন পোশাকে শিশুদের ভিড়। কেউ বাবা-মায়ের হাত ধরে নতুন গল্পের বই খুঁজছে, কেউ আবার ছবি, কমিকস বা বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ের স্টলে দাঁড়িয়ে উল্টেপাল্টে দেখছে। অনেকেই নিজের পছন্দের বই কিনে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছে।
বিজ্ঞাপন
মেলায় আসা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি বলে, আমি গল্প আর অ্যাডভেঞ্চারের বই খুব পছন্দ করি। শিশু প্রহরে ভিড় কম থাকায় আরাম করে বই দেখতে পারছি।কয়েকটা বই কিনেছি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম জানায়, আমি ছবি আর রূপকথার বই দেখতে ভালোবাসি। এখানে এসে অনেক নতুন বই দেখলাম। আমার খুব ভালো লাগছে।
এক অভিভাবক শারমিন আক্তার বলেন, শিশু প্রহর থাকায় বাচ্চাদের নিয়ে নিশ্চিন্তে মেলায় আসা যায়। তারা স্বাচ্ছন্দ্যে বই দেখতে পারে এবং নিজের পছন্দের বই বেছে নিতে পারে।
আরেক অভিভাবক মাহবুব হাসান বলেন, ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা জরুরি। এমন আয়োজন শিশুদের বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞাপন
একটি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আরিফুল ইসলাম জানান, শিশু প্রহরে মূলত শিশুদের বইয়ের বিক্রি বেশি হয়। গল্প, কমিকস ও বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা বলেন, শিশুরা বই হাতে নিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে। তাদের আগ্রহ দেখে ভালো লাগে। অনেক অভিভাবকও সন্তানদের জন্য বই কিনে দিচ্ছেন।
আয়োজকদের মতে, শিশুদের বইমুখী করে তোলাই শিশু প্রহরের মূল উদ্দেশ্য। ছোট পাঠকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে বইমেলার পরিবেশও হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়।
শিশুদের হাসি, কৌতূহল আর বই হাতে উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে বইমেলার শিশু প্রহর যেন হয়ে ওঠে এক আলাদা উৎসব। এখানে বইয়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় যেমন ঘটছে, তেমনি গড়ে উঠছে পাঠাভ্যাসের একটি সুন্দর ভিত্তিও।
এম/এফএ

