ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন দেড় বছর আগে। তবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী চলে গেলেও তার রাজনীতি এখনো দেশে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: মহানবীর (স.) জীবনী লিখতে চান আসিফ নজরুল
শেখ হাসিনার রাজনীতি কেমন ছিল, তার তিনটি দিকও নিজের পোস্টে তুলে ধরেছেন আসিফ নজরুল।
সাবেক এই উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে নেই বহুদিন। কিন্তু সত্যিই কি নেই? আমার মনে হয় তিনি আছেন। শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তার রাজনীতিটা রয়ে গেছে বাংলাদেশে। তার রাজনীতির কিছু মূলমন্ত্র ধারণ করে আছে তার পতনের আন্দোলনের মানুষদের কেউ কেউ।’
কী ছিল শেখ হাসিনার রাজনীতি, পোস্টের পরের অংশ তিনটি ভাগে সেটি তুলে ধরেছেন আসিফ নজরুল। যার প্রথমটি হলো- মালিকানার রাজনীতি।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুলের মতে, ‘শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের মালিকানার রাজনীতি করতেন।
সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) আর তার অনুগতরাই কেবল যুদ্ধটা করেছেন, বাকি কেউ না। তাই তার পক্ষে থাকা মানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা, তার বিরোধিতা মানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা। যে কাজ পক্ষের মানুষের জন্য জায়েজ, তা অন্যর জন্য শাস্তিযোগ্য। জুলাইকে কেন্দ্র করে আছে এই রাজনীতি, আছে কিছু মানুষের মধ্যে।’
দ্বিতীয় অংশে আসিফ নজরুলের দাবি, শেখ হাসিনা ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি করতেন। কথায় কথায় রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, পাকিস্তানপন্থী ছিল তার রাজনীতির অন্যতম হলমার্ক। এসব ট্যাগ বদলিয়েছে, কিন্তু এর রাজনীতিটা রয়ে গেছে। এখন চলছে যত্রতত্র ফ্যাসিস্টের দোসর, ভারতের দালাল, জুলাই গাদ্দার- এসব ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি। বছরের পর বছর আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত কেউ এই ট্যাগ পাচ্ছেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মীর কাছে।’
তৃতীয় অংশে আসিফ নজরুলের মন্তব্য, শেখ হাসিনা ভিকটিমহুডের রাজনীতি করতেন। তিন বলেন, ‘ভিকটিম ছিলাম বলে শিকারি হয়ে যাওয়ার অধিকারবোধ ছিল শেখ হাসিনার আরেক রাজনীতি। এই রাজনীতিও টিকে আছে বহাল তবিয়তে।’
সবশেষে সাবেক আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা শুধু শেখ হাসিনার শাসন অবসানের আন্দোলন করেছি। কিন্তু তার রাজনীতির অনেকটা নিজের ভেতর রেখে দিয়েছি।’
এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল জানান, তিনি সহজ ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনী লিখতে চান।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে ধন্যবাদ দিলেন আসিফ নজরুল
পোস্টে তিনি লেখেন, কয়েক বছর আগে তিনি হজ পালন করেন। হজ থেকে ফিরে আসার পর ধর্মীয় বিষয়ে জানার আগ্রহ তার মধ্যে অনেক বেড়ে যায়। সে সময় তিনি মহানবীর (সা.) জীবনী নিয়ে বেশ কয়েকটি বই পড়েন।
সাবেক উপদেষ্টা বলেন, এসব পড়ার পর তার মনে প্রবল ইচ্ছা জন্ম নেয় সহজ ভাষায় মহানবীর (সা.) জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি বই লেখার। যেখানে শুধু ধর্মীয় দিক নয়, মানুষের পথপ্রদর্শক হিসেবে তার ভূমিকার পাশাপাশি ব্যবসা, যুদ্ধ পরিচালনা, কূটনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং মানবাধিকারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অসামান্য সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।
প্রসঙ্গত, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারে আইন মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাবির শিক্ষক আসিফ নজরুল। ইউনূস সরকারের শেষ দিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বও সামলাতে হয় তাকে।
এএইচ
