দুই কমিশনারসহ পদত্যাগ করেছেন দুদকের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মোমেন। ইতোমধ্যে তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কেন এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এ ব্যাপারে নিজেই জানিয়েছেন দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে পদত্যাগপত্র জমাদান শেষে সাংবাদিকদের আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের পদত্যাগের বিশেষ কোনো কারণ নেই। আমরা অনুভব করেছি যে, এই পরিবর্তনের পর নির্বাচিত যে সরকার তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিশ্চয় আমাদের থেকেও অধিকতর যোগ্য কমিশন এখানে স্থাপন করবেন। সেই প্রত্যাশায় সুযোগ করে দিতেই এই পদত্যাগ। আশা করি তারা যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেবে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে অন্য দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদসহ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিদায়ী কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজীও। তিনিও জানিয়েছেন, কোনো চাপের মুখে তারা পদত্যাগ করেননি।
বিদায়ী কমিশনার আজিজী সাংবাদিকদের বলেন বলেন, আমরা আজকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। ভালোভাবেই কাজ করেছি। নতুন দায়িত্বে যারা আসবেন তাদের জন্য শুভকামনা। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
বিজ্ঞাপন
২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আবদুল মোমেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। সে সময় তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মোমেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হন। পরে তাকে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তাকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির দুই কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা দলটি প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনছে। এর মধ্যে কোনো কোনো কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। এবার নিজ থেকে পদত্যাগ করার তালিকায় যুক্ত হলেন দুদক চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানটির দুই কমিশনার।
জেবি

