ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঈদের আগে হচ্ছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঈদের পর এ নির্বাচনের আয়োজন করার সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, আমরা দলগুলোকে চিঠি দিয়েছি ১৫ মার্চের মধ্যে কতজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে জোট করবে, তা লিখিতভাবে জানাতে। দলগুলোর জোট নির্ধারণের পর সংরক্ষিত আসনের জন্য ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যথায় সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন আটকে যাবে। এজন্য তারা জোটের তথ্য পাঠানোর পরই আমরা সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করতে পারব।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, সংসদে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মোট আসন সংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে সংরক্ষিত মহিলা আসন বণ্টন করা হয়।
এরপর ইসি সচিবালয় রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে। পরবর্তীতে ইসির বৈঠকে অনুমোদনের পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দকৃত আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে অনেক সময় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ঈদের আগে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হচ্ছে না। আইন অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’
সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত
সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদে প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে প্রতিটি দলের নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত প্রাপ্ত আসন সংখ্যা দ্ধ ৫০ স্ট ৩০০—এই সূত্রে নারী আসনের হিসাব করা হয়।
সাধারণ আসনে কারা কতটি আসন পেয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দুটি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন—প্রতিটি দল পেয়েছে একটি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।
আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকায় এখন পর্যন্ত ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় সংসদে দলটির প্রতিনিধি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮ জনে।
জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫টি আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা একটি আসন পাবে (যদি জোট করে)। এনসিপি পাবে একটি আসন।
অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। জোট করলে পাবে একটি আসন। এক্ষেত্রে বিএনপির আরও একটি আসন বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬টি। আবার জোটগত ভাবে যদি নির্বাচন করে, তাহলে বিএনপি ৩৫টি আসনই পাবে। তবে জামায়াতের দুটি আসন বৃদ্ধি পেয়ে ১৩টি হবে।
এছাড়া বৈধ প্রার্থীর মারা যাওয়ায় স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ ও তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ গ্রহণ করে। জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পাইনি।
এমএইচএইচ/এএইচ

