রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত। ছবি: ঢাকা মেইল

মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সারা দেশে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে জাতি। শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহবুদ্দিন এবং ১২ টা ৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেন করেন। 


বিজ্ঞাপন


pm1_20260221_005118476

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বিদেশি কূটনীতিক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জিয়া পরিবারের সদস্যরা শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। 


বিজ্ঞাপন


জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ১১ দলীয় জোটের নেতারা সহ বিরোধীদলীয় নেতারাও শহীদদের চিরশান্তি কামনা করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অনুষ্ঠানে জামায়াতের প্রথম আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ। 

633780435_1261349762848991_8090329704454980177_n

রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সে সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা সংগঠন পর্যায়ক্রমে ভাষাশহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারও হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভেসে ওঠে কালজয়ী গান  ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের ভিড়।   

এর আগে শুক্রবার মধ্য রাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের অগণিত মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় উপস্থিত হন।

633731497_904342002509571_6149938656624806224_n

এসময় হাজার হাজার মানুষ খালি পায়ে বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি—আমি কি ভুলিতে পারি’- গানে কণ্ঠ মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যান। 

এছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অনেক বিদেশি নাগরিককে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ ছিল সরকারি ছুটির দিন। 

‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রভাতফেরি সহকারে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

637771350_1792732248349181_3284706177452884109_n

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ, জারি হয় ১৪৪ ধারা, ভেঙে ফেলা হয় শোষকের শৃঙ্খল। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। গুলিতে বিদীর্ণ হয় বুক। শহীদ হন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা আরো অনেকে। ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাস গড়েন তারা। বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। 

মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গের এই দিনটিকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালে। অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। 

এছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজধানীর স্কুল-কলেজ ও পাড়া-মহল্লায়ও ছিল নানা আয়োজন। অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সবাই। এই শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বেঁচে থাকবে আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। এসব আয়োজনে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। 

631688660_2282564835569628_2593644747035628269_n

আজিমপুর কবরস্থান এবং শহরের অন্যান্য স্থানেও পুষ্পস্তবক অর্পণ, কালো ব্যাজ এবং ভোরের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলি বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে এবং সংবাদপত্রগুলো দিবসটি উপলক্ষে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর