বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ভোটের আগে অনুদান, বরাদ্দ ও সংবর্ধনা গ্রহণে ইসির নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৫ এএম

শেয়ার করুন:

EC bhaban
নির্বাচন কমিশন ভবন। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের আগে অনুদান, বরাদ্দ ও সংবর্ধনা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাঁদের পক্ষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাঁদা, অনুদান বা উপটৌকন প্রদান কিংবা এর প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না।

ইসির জারিকরা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ এর ধারা ৪ এ বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তাহার পক্ষ হইতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে উক্ত প্রার্থীর নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উক্ত এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান বা উপটৌকন প্রদান করিতে বা প্রদানের অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি প্রদান করিতে পারিবেন না। কোনো প্রার্থী কোনো প্রতিষ্ঠান বা সমিতি বা সংগঠন হইতে কোনো প্রকার সংবর্ধনা গ্রহণ করিতে পারিবেন না।


বিজ্ঞাপন


এতে আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোন প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করা যাইবে না। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল হইতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো প্রকার অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ প্রদান বা অর্থ অবমুক্ত করিতে পারিবে না।

এদিকে এ আচরণ বিধিমালার ধারা ৫ এ বলা হয়েছে, সরকারি ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউজ বা কোনো সরকারি কার্যালয়কে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারের স্থান হিসাবে ব্যবহার করা বা এতদুদ্দেশ্যে উহাতে অবস্থান করা যাইবে না। অন্য কোনো বিধিমালা বা নীতিমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্বাচন পরিচালনার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সরকারি ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউজ ও সার্কিট হাউজ ব্যবহারে অগ্রাধিকার পাইবেন।

আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম হিসাব গণ্য করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে ইসি। আরিপও ৯১খ(৩) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিধিমালার কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।


বিজ্ঞাপন


একইভাবে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন-পূর্ব সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দলটিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রাখে। কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে ইসি। তদন্তে সন্তুষ্ট হলে আরপিও ৯১ঙ অনুযায়ী লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে। প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত আদেশ দ্রুত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হবে এবং তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চলবে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

এমএইচএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর