নিজের দায়িত্বের শেষ চার মাস অদৃশ্য শক্তি তাকে কাজ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি’ আয়োজিত ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞাপন
এনসিপিতে যোগ না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির এই যোদ্ধা বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দলের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল, ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে আমি তাদের সাথে নেই।’
মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, নতুন মিডিয়া আসুক। পাঁচ-সাতটা নতুন মিডিয়া এসেছে। ওরা অভ্যুত্থান ও তরুণদের পক্ষে কিছু ভালো কাজ করেছে। এতেই পুরাতন বন্দোবস্তের যারা আছেন, তাদের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ ভীতি সঞ্চার হয়েছে। তাই আমরা যেন কোনোভাবেই কাজ করতে না পারি, তারা সেই ব্যবস্থা করেছে।’
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘পুরাতন বন্দোবস্ত থেকে নতুন বন্দোবস্তে পদার্পণের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় লাগবে। ক্ষমতার কাঠামোর পুনর্বিন্যাস লাগবে। সম্পদ এবং ভূমির পুনর্বিন্যাস লাগবে। জাতীয় পুঁজির পুনর্বিন্যাস লাগবে। সেক্ষেত্রে এখানকার অলিগার্ক বা আমলারাসহ যারা আছে, তাদের ‘ডিসমেন্টাল’ করতে হবে। আওয়ামী লীগের জন্য যে সিভিল সোসাইটি এবং কালচারাল সফট পাওয়ার ‘আবে হায়াতের’ মতো ছিল, তাকে ডিসমেন্টাল করতে হবে। পুরাতন বন্দোবস্তের লোকদের বসিয়ে নতুন বন্দোবস্ত সম্ভব না।’
মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম একটা নতুন রাজনৈতিক পরিষদ তৈরি হবে। একটা প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত হবে এবং তারা রাজনৈতিকভাবে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু আমরা কখনোই এটা চাইনি যে, একটা ধর্মপন্থী রাজনৈতিক দলের সাথে গিয়ে উনারা আঁতাত করবেন। এটার জন্য আমরা এই রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি বা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি করিনি।’
মাহফুজ আলম আরও বলেন, ‘আমরা এনসিপি বা নাগরিক কমিটিকে এজন্য পলিসি সাপোর্ট দিয়েছি যে, তারা একটা শক্তিশালী তৃতীয় শক্তি আকারে বাংলাদেশের জনগণের সামনে থাকবে। যেটা মানুষকে বলবে যে, এই পুরাতন বন্দোবস্ত যারা চায়, তাদের বাইরে আমরা আপনাদের ভয়েস হতে চাই।’
শহীদ ওসমান হাদি আমাদের পথ দেখিয়েছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যে সিস্টেম আমাকে হাসিনার নামে শোষণ করেছে, আমরা যদি সেই সিস্টেমের কাছে আত্মসমর্পণ করি! যে সিস্টেমের অধীনে থেকে রাজনৈতিক দলগুলো অপারেট করছে এবং গত দুই বছরে পদে পদে সংস্কার ও বিচারের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিচার ও বিভিন্ন তদন্ত কমিটিকে নিজেদের রাজনৈতিক বার্গেনিং টুল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই দলগুলার কাছে গিয়ে আমার আত্মসমর্পণ করাটা আমি মনে করি ভূতের মতো পিছে হাঁটার মতো।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
জেবি

