সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

আলোচিত নেতাদের কার মনোনয়নপত্র বৈধ, কারটা অবৈধ হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

Mp
যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ এবং বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য কয়েকজন আলোচিত নেতা। ছবি- ঢাকা মেইল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন চলছে সারাদেশের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। এই কার্যক্রম শেষ হবে রোববার (৪ জানুয়ারি)। এরপর ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল দায়েরের কার্যক্রম।

যাচাই-বাছাইয়ে অধিকাংশ প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নানা কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র আবার বাতিলও করেছেন প্রার্থীদের স্ব স্ব এলাকার নির্বাচনি কর্মকর্তা। 


বিজ্ঞাপন


এর মধ্যে আবার আলোচিত বেশিরভাগ প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারও কারও মনোনয়নপত্র বাতিলও হয়েছে। তাহলে এক নজরে জেনে নেওয়া যাক, আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে কার কার মনোনয়নপত্র বৈধ এবং বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে

আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। দুটি আসনেই তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানের মনোনয়নও বৈধ।


বিজ্ঞাপন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তার মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। 

জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং সে অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মো. মামুনুল হক মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ঢাকা-১৩ আসন থেকে। তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ঢাকা-১১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। সেটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. এম এ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত আলোচিত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার কারণে তিনি বেশ আলোচিত।

পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও জুলাই যোদ্ধা সারজিস আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে

মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সময়র্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তার হলফনামায় দেওয়া তথ্যে গরমিল পেয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের মধ্যে দুজনের বিষয়ে সত্যতা না পাওয়ায় অর্থাৎ তারা অন্য আসনের ভোটার হওয়ায় ঢাকা-৯ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

এই কারণে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জুলাই বিপ্লবী মহিউদ্দিন রনি মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আব্দুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তার ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন টেন বি ফর্ম জমা দেওয়া হয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও দেননি। এছাড়া প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের তথ্যও দেননি।

মহেশখালী–কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-২ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই ও আপিল দায়েরের পর নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। 

রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, গণভোটও একই দিনে।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর