মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ঢাকা

এমপি আনার হত্যায় নতুন মোড়

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৪, ০৬:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

এমপি আনার হত্যায় নতুন মোড়

ভারতের কলকাতার একটি বাসায় হত্যার শিকার হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। বিদেশের মাটিতে এমপি হত্যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে এখনও পাদপ্রদীপের আলোয় আছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আখতারুজ্জামান শাহিন। তবে শুধু শাহিন নন, আড়ালে থেকে হত্যাকাণ্ডে গুটি চালতে পারেন— এমন সন্দেহ থেকে সরছে না তদন্তকারী সংস্থাগুলো। 

চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, এমপি আনার হত্যায় রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে ঝিনাইদহের রাজনৈতিক নেতাদের ওপর। দেখা হচ্ছে— এমপি আনার না থাকায় লাভবান হচ্ছেন কারা। 


বিজ্ঞাপন


এমন পটভূমিতে ঝিনাইদহের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে চোখে চোখে রেখেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। যাদের সঙ্গে সখ্যতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শাহিনের। তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের নজরদারি থেকে বাদ যাচ্ছেন না; এমপি আনারের সঙ্গে বিরোধ আছে— এমন নেতারাও। যদিও চোরাকারবার কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বসহ বেশ কয়েকটি ক্লু সামনে রেখে রহস্য ভেদের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। 

এদিকে মঙ্গলবার (১১ জুন) বিকেলে মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, আনার হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা কার কার কাছে শেয়ার করেছে, তা তদন্ত চলছে। ছবি দিয়ে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে কি না, কাদের মাধ্যমে আর্থিক লাভবান হয়েছে— সব বিষয় তদন্ত করে বের করা হচ্ছে। এছাড়া ঝিনাইদহের আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হারুন অর রশীদ বলেন, কিলিং মিশনে যারা অংশ নিয়েছিল কলকাতা থেকে এমপি আনারের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে কার সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে এবং এতে কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—সবকিছু তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন
আনারকে হত্যার পর হোয়াটসঅ্যাপে ছবি শেয়ার করেছিল আসামিরা: ডিবি হারুন

হারুন বলেন, ‘সব তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে মনে করেছি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন—এ জন্য তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনেছি। তার রিমান্ড চলছে, তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ঘটনা ডিবি ওয়ারী বিভাগ তদন্ত করছে। বাংলাদেশে অপহরণ মামলা হয়েছে; অন্যদিকে ভারতে হত্যা মামলা হয়েছে। দুই দেশের উদ্দেশ্য অভিন্ন।’

ডিবিপ্রধান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্রেফতার আসামি ও ভারতে গ্রেফতার আসামিদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল ঘাতক আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়াসহ অন্যরাও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডটি ভারতে সংঘটিত হয়েছে এবং সব আসামি বাংলাদেশি। হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় সব আসামি বাংলাদেশে চলে আসে।’

হত্যাকাণ্ডের পর ২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নে হারুন বলেন, ‘এগুলো আমরাও শুনেছি, সবকিছু তদন্ত করছি। হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহিন বাংলাদেশ থেকে দিল্লির পর কাঠমান্ডু; এরপর দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। তাকে আমরা ধরতে না পারলেও মোটামুটি বাকি সব আসামির বিষয়ে জানতে পেরেছি। আসামিদের অনেককেই গ্রেফতার করেছি, ভারতে জিহাদ গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া কাঠমান্ডু থেকে গ্রেফতার সিয়ামকে ভারতে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রয়োজন মনে করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাব।’

হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহিনের ব্যবহৃত দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

অপর দিকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে— হত্যার পরপরই ঝিনাইদহের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার মোবাইলে খুনিরা খুদে বার্তা পাঠায়। ‘মিশন সফল’ এটা তাদের বলা হয়। বিষয়গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৪ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য আনার কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত ১১ মে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। প্রথমে কলকাতার বরাহনগরে তার বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর স্থানীয় থানায় জিডি করেন গোপাল বিশ্বাস। তদন্ত শুরু হয় দুই দেশে। ২২ মে সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর আসে— নিউটাউনের এক বাড়িতে খুন হয়েছেন এমপি আনার। এরপরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতের পুলিশের বরাত দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর