সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হোটেল-নির্বাচনী বুথ-গুদাম বসিয়ে রেলের জায়গা দখল

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৯ এএম

শেয়ার করুন:

হোটেল-নির্বাচনী বুথ-গুদাম বসিয়ে রেলের জায়গা দখল

গত ৭ জানুয়ারি শেষ হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু এখনও ওঠেনি প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোর কাজে বসানো নির্বাচনী বুথ। পাশে সরকার দলীয় অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়। আরও বসানো হয়েছে ভাতের হোটেল ও মালামাল রাখার গুদাম। এভাবে রেললাইন ও গেটের পাশে অস্থায়ী স্থাপনা বসিয়ে জায়গা দখল করা হয়েছে। ফার্মগেট থেকে সাত রাস্তা যাওয়ার পথে রেলগেটের ডানপাশে চোখে পড়বে এমন দৃশ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-১২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তার প্রচার-প্রচারণার জন্য ফার্মগেট থেকে সাত রাস্তা যাওয়ার পথে থাকা রেলগেটের পাশে বানানো হয়েছিল এই নির্বাচনী বুথ। নির্বাচন শেষ হয়েছে কিন্তু সেই বুথ এখনো ওঠেনি।

রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, সেই নির্বাচনী বুথের ভেতর এখনো চেয়ার টেবিল রাখা হয়েছে। সাঁটানো আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার। সেই ব্যানারে বড় করে এক পাশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ছবি এবং দুই পাশে যুবলীগের নেতাদের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাতে বামে ঢাকা মহানর যুবলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ মিজানুর রহমান, আরেক পাশে ২৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা হারুন উর রশীদ ধ্রুব, সুমন ভুইয়া এবং ওই ওয়ার্ডের সাবেক ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আদম এ হাসানের ছবি দেখা গেছে।

rail2

শুধু তাই নয়, নির্বাচনী বুথের পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়, খাবারের হোটেল এবং কমিউনিটি রেল পুলিশ কার্যালয়ের নাম করে জায়গা দখলের পায়তারা চলছে। ইতোমধ্যে খাবারের হোটেল, কমিউনিটি পুলিশের নাম ব্যবহার করে দুটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। একটিতে হোটেল ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

সেই নির্বাচনী বুথ থেকে বের হয়ে পাশে থাকা একটি অস্থায়ী হোটেলের কর্মীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করা শর্তে ঢাকা মেইলকে জানান, তারা শুক্রবার দোকানটি চালু করেছেন। সুমন ভুইয়া নামে এক যুবলীগ নেতার সহায়তায় তারা দোকানটি বসিয়েছেন। তবে সেই সুমনকে সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার খোঁজও দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ ঢাকা মেইলকে বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। আমরা তো এমন বুথ অপসারণে নির্দেশনা দিয়ে থাকি। তারপরও এমন কিছু হলে সেটি অপসারণ বা ভাঙ্গার জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

rail3

কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের নজরে এমন কোনো কার্যালয় পড়েনি। এরপরও বিষয়টি আমরা জানলাম। এমনটি হয়ে থাকলে বিষয়টি দেখছি।

সেই রেলগেটের আশপাশে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা জানান, মাস খানেক আগেও সেখানে নির্বাচনী বুথ ছাড়া আর কোনো কিছু ছিল না। কিন্তু গত ১৫ দিনের মাথায় নতুন করে রেলওয়ে পুলিশ কমিউনিটির কার্যালয়ের নামে একটি আধা পাকা ঘর তোলা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে রেল পুলিশ কিছুই জানে না বলে জানা যায়।

এমআইকে/এমএইচটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর