সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪, ঢাকা

১২তম দিনে মেলায় নতুন ১১৫ বই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

১২তম দিনে মেলায় নতুন ১১৫ বই
ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে বইমেলার ১২তম দিনে ১১৫টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও ১৪টি গল্প ও আটটি উপন্যাসসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই রয়েছে।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এদিন বেলা ৩টা থেকে বইমেলা শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে।


বিজ্ঞাপন


৪৫টি কবিতার বই ছাড়াও এদিন প্রকাশিত অন্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১৪টি গল্প, আটটি উপন্যাস, ১০টি প্রবন্ধ, ছয়টি গবেষণা, একটি ছড়া, চারটি শিশুসাহিত্য, ও চারটি জীবনী। এছাড়াও নাটক একটি, ভ্রমণ চারটি, দুইটি ইতিহাস, একটি রাজনীতি, চিকিৎসা বিষয়ক দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ১২তম দিবে ধর্মীয় দুটি, অনুবাদ ১৪টি, সায়েন্স ফিকশন একটি এবং অন্যান্য বিষয়ে ছয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি: হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।

প্রাবন্ধিক বলেন, হেনা দাস আজন্ম এক প্রতিবাদী সত্তার একজন শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী ও ঈর্ষণীয় সংগঠক। নির্লোভ শুভ্রতার প্রদীপ হয়েই তিনি আলো ছড়িয়েছেন এবং সকল প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে মানুষের জন্য পথ উন্মোচন করেছেন। দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং শোষণমুক্তির লক্ষ্যে একজন সার্বক্ষণিক কমিউনিস্ট কর্মী হিসেবে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। এজন্য ঔপনিবেশিক শাসন, শ্রেণি ও লিঙ্গ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। মহিলা সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, গণনাট্য সংঘ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হেনা দাস নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন।

আলোচকরা বলেন, বিপ্লবী হেনা দাস ছাত্রজীবন থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন। নারী আন্দোলন, শিক্ষক আন্দোলন ও সামাজিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মানুষের মধ্যে থেকে আজীবন তিনি বিপন্ন মানুষের কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। কোনো বাধাই তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। সব বাধা উপেক্ষা করে দৃঢ়চিত্তে নিজের আদর্শের পথে অগ্রসর হয়েছেন হেনা দাস। বিপ্লবী চেতনার পাশাপাশি তিনি ছিলেন সৃজনশীল মননের অধিকারী একজন মানুষ।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

আধিপত্যে একটুও ভাটা পড়েনি কিংবদন্তি লেখকদের

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শিরীণ আখতার বলেন, বিপ্লবী হেনা দাস অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন সারা জীবন। তার প্রতিটি কাজে দৃঢ় মনোবল ও সংগ্রামী আদর্শের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই। আমাদের জীবনে, মননে এবং সুন্দর সমাজ গড়ার আন্দোলনে বিপ্লবী হেনা দাস সবসময় স্মরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন।

এছাড়া আজ ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি আলতাফ হোসেন, সাজ্জাদ আরেফিন, ওমর কায়সার, ইউসুফ রেজা, আসাদ কাজল, শাহেদ কায়েস এবং সারমিন মতিন মিতু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী কাজী মদিনা, পলি পারভীন, জালালউদ্দীন হীরা। এছাড়াও ছিল নাজিয়া জাবীনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্পর্শ ফাউন্ডেশন’, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় আবৃত্তি সংগঠন ‘কথা আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্র’ এবং মো. সজীব মিয়ার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হাওলা’র পরিবেশনা।

এতে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া, সাইদুর রহমান বয়াতি, জহির আলীম, আবুল বাসার আব্বাসী এবং বশির উদ্দিন সরকার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম কুমার সরকার (তবলা), ইফতেখার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড), মো. হাসান আলী (বাঁশি), খোকন বাউলা (দোতারা) এবং মেহেদী হাসান রনি (বাংলা ঢোল)।

এমএইচ/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর