রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

গা গুলিয়ে ওঠার মতো ভারতের উদ্ভট ৮ খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৩, ১২:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

গা গুলিয়ে ওঠার মতো ভারতের উদ্ভট ৮ খাবার

একেক দেশে একেক রকম খাবার খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। কোথাও যে খাবারটি খাওয়া নিষিদ্ধ, কোথাও সেটি জনপ্রিয়। ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ। প্রকৃতি যেখানে ভীষণ উদার। এই অংশের বাসিন্দারা নিজের মতো করেই জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন। 

এখানকার মানুষরা এমন কিছু খাবার খেয়ে থাকেন যার সম্পর্কে শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। উদ্ভট এসব খাবারে কোনোটির কথা শুনলে গা গুলিয়েও উঠতে পারে। চলুন এসব খাবার সম্পর্কে জেনে নিই- 


বিজ্ঞাপন


ওয়াচিপা, সিকিম

সিকিমের খাবার মধ্যে নেপালি, ভুটিয়া এবং লেপচা খাবারের প্রভাব স্পষ্ট। এই পাঁচ মিশালি স্বাদই সিকিমের খাবারকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সিকিমের রাই নামের উপজাতির খাবার হলো ওয়াচিপা। উৎসব আয়োজনে তারা এই খাবার তৈরি করে। একটি থালায় ভাত, মুরগির কিমা থাকে। এক ধরনের বিশেষ মশলা মেশানো থাকে এতে। মশলাটি তৈরি করা হয় মুরগির পোড়া পালক গুঁড়ো করে। এর স্বাদ খানিকটা তেতো হয়। এই খাবারের নিরামিষ সংস্করণে মুরগির পরিবর্তে দামলাপা নামের এক ধরনের উদ্ভিদের ফুল দেওয়া হয়। এর স্বাদও তেতো। 

ব্যাঙের পা, সিকিম

আমরা যেমন মুরগির ঠ্যাং লেগ পিস খেতে ভালোবাসি তেমনই সিকিমের লেপচা সম্প্রদায়ের প্রিয় খাবার হল ব্যাঙের পা। ঠিকই পড়ছেন। চিন, কোরিয়া বা ব্যাংককের লোকেরাই নন, সিকিমের লোকেরাও ব্যাঙের পা খান। লেপচা সম্প্রদায়ের মানুষদের বিশ্বাস, ব্যাঙের ঠ্যাং রান্না করে খেলে নাকি পেটের রোগ সেরে যায়। 


বিজ্ঞাপন


এরি পোলু, আসাম 

আসামের সিল্ক শাড়ির কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। বেশ জনপ্রিয় এই শাড়ির সিল্ক তৈরির জন্য সেখানে বিপুল পরিমাণে রেশম চাষ হয়। রেশম পোকা থেকে রেশম ছাড়িয়ে নেওয়ার পর অবশিষ্টাংশকে বলা হয় পোলু। এই পোলু বা রেশম কীটের পিউপা রান্না করা হয়। অসমের ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ও মশলা দিয়ে পিউপার তরকারি তৈরি হয়। এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয় কচি বাঁশ বা বাঁশ কোড়ল। 

জাদোহ স্নাম, মেঘালয়

মেঘালয়ের বেশিরভাগ খাবারেরই মূল উপাদান থাকে মাংস। জাদোহ খাবারটিও তৈরি হয় মাংস দিয়ে। স্থানীয় ভাষায় 'জা' কথার অর্থ 'ভাত' এবং 'দোহ' হল 'মাংস'। এটি হলো মূলত শূকরের মাংস এবং চর্বি দিয়ে রান্না করা ভাত। এখানেই শেষ নয়। এই জাদোহ স্নামের স্পেশাল উপকরণটি হলো শূকরের রক্ত।

দো খলিহ, মেঘালয়

দো খলিহ হলো একটি শূকরের মাংসের সালাদ। মাংস ছাড়াও এতে শূকরের ঘিলু, কান, জিভ দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও মশলা।

স্টিম হর্নেট লার্ভা, নাগাল্যান্ড

শুনলে অবাক হবেন, নাগাল্যান্ডের স্থানীয় সম্প্রদায়গুলি ১০০টিরও বেশি ভোজ্য পোকা খেয়ে থাকেন! এ পোকাগুলি রান্না, সিদ্ধ, ভাজা কিংবা রোস্ট করে খাওয়া হয়। আবার কিছু কীটপতঙ্গ যেমন, পিঁপড়া, নানা ধরনের মাছি ও মৌমাছির কাঁচা লার্ভাও তারা খেয়ে থাকেন। স্টিমড হর্নেট লার্ভা বেশিরভাগই রাস্তায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

এরোম্বা, মণিপুর

মণিপুরের মেইতেই সম্প্রদায়ের প্রিয় খাবার এরোম্বা। সিদ্ধ সবজি, নাগা কিং মরিচ এবং শুঁটকি মাছ একসঙ্গে মেখে এটি রান্না করা হয়। রান্নাটি হয় মাটির পাত্রে। এতে তেল ছাড়া আর কোনও মশলা দেওয়া হয় না। 

গন্ধযুক্ত ছারপোকা, অরুণাচল প্রদেশ

শুনলে গা গুলিয়ে উঠতে পারে। তবে অরুণাচল প্রদেশের আদি এবং গ্যালো উপজাতিদের মধ্যে ছারপোকা খাওয়ার চল আছে। এটি তাদের প্রিয় পদ। নদীর ধারে পাথরের নিচে ছারপোকা জড়ো করা হয়। সেগুলি কাচা কিংবা সিদ্ধ করে কাঁচা মরিচ দিয়ে খান তারা। 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর