ঢাকার আফতাবনগরের ঠিক পেছন দিকে গড়ে উঠছে আরেক কংক্রিটের ‘শহর’। কাশবনের পাশেই রাস্তা। চা গিলতে গিলতে রিকশাওয়ালার মুখে শুনতে পেলাম- দশতলা। মানে গন্তব্যস্থলের নাম- দশতলা বিল্ডিং।
সামনের বালু আর নদী পেরিয়ে চোখ গেল ওই দশতলা বিল্ডিং এর দিকে। কিন্তু সচেতনভাবে সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা দেখা যাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল বিলের মধ্যে পরিত্যক্ত এক ভবন!

বিজ্ঞাপন
ঠিক এরপরেই ঠিক হলো— যেতে হবে একদিন। শুক্রবারে বন্ধুবর শ্রদ্ধেয় রাজিবভাইসহ বাইকযোগে যাত্রা শুরু। আফতাবনগরের পেছনে, কাশবন পেরিয়ে ওয়াসার একটি প্রজেক্ট চলছে, যাকে স্থানীয়রা বলেন- চায়না প্রজেক্ট। এ প্রজেক্টের ঠিক পাশ দিয়েই নতুন বিছানো ইট আর সোলিংয়ের সরু রাস্তা।
দুর্গম মনে হলেও সাইনবোর্ড আর স্থাপনা দেখে মনে হলো- এই জনপদের বয়স অনেক। সাপের মতো আঁকাবাঁকা রাস্তা। এই অঞ্চলটি খিলগাঁওয়ের অংশ। তবে মনে হচ্ছিলো- রাজধানী নয়, যেন গ্রাম। হাতের ডানপাশে নদী, ডানপাশে জলের আড়ৎ।

প্রায় ৪০ মিনিটের যাত্রা শেষে পৌঁছে গেলাম কায়েতপাড়ায়। এটি মূলত নারায়ণগঞ্জের সীমানার মধ্যে। সাপ্তাহিক হাটবার ছিল সেদিন। হাট দেখে মনে হচ্ছিলো, ‘হাজার বছর ধরে’র সেই শান্তির হাট। গ্রামীণ হাট। হাটের মধ্যে স্থায়ী-অস্থায়ী সব দোকান। ছোটবেলায় এমন হাটে গিয়েছি বহুবার।
বিজ্ঞাপন
হাট যে নদীর তীরে- সে নদীর নাম বালু নদী। কিশোরী কন্যার চুলের মতো এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে এ নদী। নদীর দুপাশে মানুষের পদচারণা। এখানে কিছুক্ষণ বসে থাকলেই হয়তো পাওয়া যাবে- জীবনানন্দের দু দণ্ড শান্তি!

শহর আর শব্দ পেরিয়ে এ জনপদ যেন নীরবতার সামিয়ানা। মুগ্ধ না করুক- আত্মায় কিছুটা শান্তি দিবে নিশ্চিত।
লেখক: আইটি এক্সপার্ট, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ভ্রমণপ্রেমী
এনএম




