বাঙালির রান্নাঘরে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয় স্টেনলেস স্টিলের বাসন। নাম স্টেনলেস হলেও এই বাসনেও খুব সহজেই নানা রকমের দাগছোপ ধরে যায়। পানির আয়রনের দাগ, তেলমশলার দাগ এবং নানা রকম পানির দাগে এসব বাসন চিত্রবিচিত্র হয়ে থাকে। অতিরিক্ত পরিশ্রম না করে রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান দিয়েই চোখের নিমেষে এই দাগ দূর করা সম্ভব।
স্টিলের বাসনকে যতই স্টেনলেস বলা হোক না কেন, তাপ, পরিষ্কার করার পদ্ধতি এবং রান্নার কারণে এতে খুব সহজেই দাগ ধরে যায়। বিবর্ণতা এবং দাগ শুধু কমদামি রান্নার পাত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, দামি রান্নার পাত্রেও এগুলো দেখা যেতে পারে। কোন পাত্রে দাগ পড়বে তা পাত্রের গুণমান দ্বারা নির্ধারিত হয় না। একটি ভালো মানের কড়াই অনেক বেশি টেকসই হয়, ফলে এটি সমানভাবে গরম হয় এবং বেঁকে যাওয়া প্রতিরোধ করে। এটি পরিষ্কার করাও সহজ এবং সাদা দাগ বা বিবর্ণতা প্রতিরোধ করতে পারে, যেখানে সস্তা পাত্রগুলোতে মরচে পড়তে পারে বা গর্ত হয়ে যেতে পারে।
আপনার একসময়ের চকচকে স্টিলের প্যানগুলোতে যে বিবর্ণতা ও দাগ দেখা যাচ্ছে, তা স্বাভাবিক এবং ক্ষতিকর নয়। এটি কেবল বাহ্যিক একটি বিষয় এবং এর মানে এই নয় যে আপনার প্যানগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। উচ্চ তাপ, খাবারের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং পরিষ্কার করার পদ্ধতির কারণে এমনটা ঘটে থাকে।
পানি আপনার স্টিলের পাত্রে সাদা খনিজ দাগ ফেলতে পারে। পানি ফোটানোর সময় পানি বাষ্পীভূত হয়ে শুকিয়ে গেলে চুন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ জমা হয়। শুকনো পাত্রে বা ঠান্ডা পানিতে লবণ দিলে তা পাত্রের তলায় জমে সাদা দাগ তৈরি করতে পারে। শ্বেতসারযুক্ত আলু, পাস্তা এবং অন্যান্য খাবারের অবশিষ্টাংশ প্যানে লেগে গিয়ে একটি খড়িমাটির মতো ঘোলাটে আস্তরণ তৈরি করতে পারে। রান্না করার তেল লেগে গেলেও পাত্রের উপরিভাগ ঘোলাটে দেখায়। আপনার প্যানে যে সাত রঙা আভা দেখা যায়, তা বেশি আঁচে খালি প্যান অতিরিক্ত গরম করার কারণে হয়ে থাকে।
এই দাগগুলো আপনার প্যানের কোনো ক্ষতি করবে না এবং এগুলো স্থায়ীও নয়। এর আগের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে আপনি সাধারণ ঘরোয়া পরিষ্কারক ব্যবহার করতে পারেন। খনিজ পদার্থের আস্তরণ, লবণের দাগ, সাত রঙা আভা, সাদা ছোপ এবং ঘোলাটে ভাব দূর করার একটি দ্রুত ও সহজ উপায় হলো ভিনেগার ব্যবহার করা। এছাড়া বার কিপার্স ফ্রেন্ড ব্যবহার করলেও এর উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
স্টিলের পাত্রে সমপরিমাণ ভিনেগার ও পানি দিন এবং তরলটি নেড়ে দিন যাতে পুরো উপরিভাগটা ঢেকে যায়। কয়েক মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং প্রয়োজনে একটি নরম, মসৃণ স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে নিন। কড়াইটি যথারীতি ধুয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। ভিনেগার গরম করেও পরিষ্কার করতে পারেন। কড়াইয়ের তলাটা ঢেকে দেওয়ার মতো করে সমপরিমাণ ভিনেগার ও পানি দিয়ে গ্যাসে মিশ্রণটি ফুটিয়ে নিন এবং তারপর আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর অম্লতা জমে থাকা ময়লা ভেঙে দেবে। প্যানটি ঠান্ডা হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
নতুন প্যানে রান্না করার সময় টমেটো সসের মতো অম্লীয় খাবার বেশিক্ষণ ধরে রান্না করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো থেকে অল্প পরিমাণে নিকেল ও ক্রোমিয়াম খাবারে মিশে যেতে পারে। কড়াইটি কয়েকবার ব্যবহার করার পর পর্যন্ত বেশিক্ষণ ধরে অল্প আঁচে রান্না করবেন না। টমেটো সস বা আচার জাতীয় অম্লীয় খাবার রান্না করার পর বেশিক্ষণ স্টিলের পাত্রে ফেলে রাখবেন না। যদিও অম্লীয় খাবার বিক্রিয়া ছাড়াই রান্না করার জন্য এগুলো ভালো, তবে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। এই খাবারগুলো কাচ বা প্লাস্টিকের খাদ্য সংরক্ষণ পাত্রে স্থানান্তর করুন।
শুকনো প্যান অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়াতে এবং প্যানে সাত রঙা আভা তৈরি হওয়া থেকে বাঁচতে, স্টিলের প্যান কম আঁচে আগে থেকে গরম করে নিন। গরম প্যানে দেওয়ার আগে খাবারগুলো কিছুটা গরম হতে দিন। হিমায়িত মাংস গলিয়ে নিন যাতে তা প্যানে লেগে না যায়। বাতাসে শুকানোর সময় জলের দাগ পড়া রোধ করতে একটি পরিষ্কার, নরম তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিন।
এজেড




