দেশজুড়ে চলছে পবিত্র ঈদুল আজহার আমেজ। কোরবানির এই মৌসুমে প্রায় প্রতিটি ঘরেই চলছে মাংস সংরক্ষণ ও গোছানোর ব্যস্ততা। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় মাংস দীর্ঘদিনের জন্য তুলে রাখা হচ্ছে ফ্রিজের ডিপ কম্পার্টমেন্টে। তবে এবারের ঈদের আনন্দের মাঝে কিছুটা অস্বস্তি যোগ করেছে আবহাওয়া। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একদিকে চলছে ঝড়-বৃষ্টি, আর অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গৃহিণীরা। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক থাকছে কিনা এবং মাংস নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিনা—তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে অনেকেরই। সবার মনে এখন একটাই সাধারণ প্রশ্ন, ডিপ ফ্রিজে রাখা মাংসে আসলে বরফ জমতে ঠিক কতক্ষণ সময় লাগে?
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞ ও রেফ্রিজারেটর টেকনিশিয়ানদের মতে, ডিপ ফ্রিজে রাখা মাংসে পুরোপুরি বরফ জমতে সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে এই সময়টা কয়েকটি বিশেষ বিষয়ের ওপর নির্ভর করে-

মাংসের পরিমাণ: ফ্রিজে একসাথে অনেক বেশি পরিমাণ মাংস গাদাগাদি করে রাখলে ঠান্ডা বাতাস চলাচলের জায়গা পায় না। ফলে বরফ জমতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে।
প্যাকিংয়ের ধরন: বড় বড় পলিথিনে অনেক মাংস একসঙ্গে না রেখে, ছোট ছোট প্যাকেটে পাতলা করে রাখলে মাংস দ্রুত জমে শক্ত হয়।
বিজ্ঞাপন
ফ্রিজের কার্যক্ষমতা ও তাপমাত্রা: ফ্রিজের থার্মোস্ট্যাট বা তাপমাত্রা যদি একদম সর্বোচ্চ বা 'সুপার কুল' মোডে দেওয়া থাকে, তবে বরফ দ্রুত জমে।

লোডশেডিংয়ে গৃহিণীদের জন্য কিছু জরুরি টিপস
১. ফ্রিজের দরজা বারবার খুলবেন না: বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজের দরজা একদম খোলা যাবে না। একটি ভালো মানের ডিপ ফ্রিজ বন্ধ অবস্থায়ও ভেতরে থাকা মাংস প্রায় ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিরাপদ ও জমাটবদ্ধ রাখতে পারে। বারবার দরজা খুললে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং বরফ দ্রুত গলে যায়।
২. মাংস ছড়িয়ে রাখুন: ফ্রিজে মাংস রাখার সময় প্যাকেটের মাঝে কিছুটা খালি জায়গা রাখুন, যেন ঠান্ডা বাতাস সব প্যাকেটে সমানভাবে পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্রিজের ভেতর এক বাটি লবণ রাখুন আর জাদু দেখুন!
৩. আগে থেকে বরফ জমিয়ে রাখুন: ঝড়-বৃষ্টির এই মৌসুমে কোরবানি ঈদের আগেই ফ্রিজের খালি জায়গায় কিছু বোতলে পানি দিয়ে বরফ বানিয়ে রাখতে পারেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে ওই বরফের বোতলগুলো মাংসের প্যাকেটের চারপাশে দিলে মাংস দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকবে।
ঝড়-বৃষ্টি এবং লোডশেডিংয়ের এই সময়ে একটু সচেতনতা এবং সঠিক নিয়মে মাংস সংরক্ষণ করলেই বিদ্যুতের বিপর্যয় সত্ত্বেও কোরবানির মাংস দীর্ঘদিন ফ্রেশ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন রাখা সম্ভব।
এজেড




