ধনুষ্টঙ্কার বা টিটেনাস হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। এর প্রধান লক্ষণ হলো মাংসপেশীর খিঁচুনি। সাধারণত চোয়ালে খিঁচুনির শুরু হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বাকি অংশে। প্রতিটি খিঁচুনির স্থায়িত্ব হয় কয়েক মিনিট।
প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ ঘনঘন খিঁচুনি হয়। কখনো কখনো খিঁচুনির তীব্রতা এতটা তীব্র হয় যে তা হাড় ভাঙার জন্যও যথেষ্ট।
বিজ্ঞাপন

গর্ভাবস্থায় কেন টিটেনাস টিকা নেওয়া জরুরি?
টিটেনাস হলে যে কেবল খিঁচুনি হয় ব্যাপারটা এমন হয়। জ্বর, ঘাম, মাথাব্যথা, গিলতে সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, দ্রুত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। লক্ষণগুলো সাধারণত সংক্রমণের তিন থেকে একুশ দিন পর দেখা যায়। সুস্থ হতে সময় লেগে যায় কয়েক মাস। প্রায় দশ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুও হয়ে থাকে। আর এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা নেওয়া জরুরি।
আগে টিকা নেওয়া থাকলেও কি গর্ভাবস্থায় নিতে হবে?
টিটেনাসের ৫টি টিকার ডোজ যদি আগেই সম্পন্ন করা থাকে তাহলে গর্ভাবস্থায় এ টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই। আর যদি কেউ পূর্বে কোনো টিকা না নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ৫ মাস পর ১ মাসের ব্যবধানে পর পর দুটি টিটি টিকা নিতে হবে।

আর যদি আগে দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকে তাহলে প্রতি গর্ভাবস্থায় মাত্র একটি বুষ্টার ডোজ নিতে হবে।
টিটি টিকা নিলে যেসব সুবিধা মিলবে
এই টিকা মা ও শিশু উভয়েরই ধনুষ্টঙ্কার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। প্রসবকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতায় অসতর্কতা, অপরিষ্কার ছুরি, ব্লেড বা কাঁচি ব্যবহার করলে (নবজাতকের নাভী কাটার সময়) অথবা নাভীর গোড়ায় নোংরা কিছু লেগে গেলে নবজাতকের ধনুষ্টঙ্কার রোগ হয়। তাই এসব প্রতিরোধে হবু মায়েদের সময়মত টিটেনাস টিকা নেওয়া অবশ্যই জরুরি।
এনএম




