অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের ব্যথা খুবই কষ্টদায়ক। একসময় কেবল বয়স্করা এ ধরনের ব্যথায় ভুগলেও, বর্তমানে কমবয়সীরাও ভোগেন। শোয়া কিংবা বসার ভুল ভঙ্গি, ভুল শরীরচর্চার ধরন ইত্যাদি কারণে এই ব্যথা বাড়ে।
রোজকার কিছু ভুল অভ্যাসের ব্যাপারে সতর্ক থাকলে এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। চলুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই-
বিজ্ঞাপন

শরীরচর্চার ভুল:
শরীরচর্চার সময় অনেকসময় পেশিতে চোট লাগে, অস্থিসন্ধিতেও ব্যথা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিকভাবে গা গরম বা ওয়ার্ম আপ না করার কারণে এমন হয়। বেশি শ্রমসাপেক্ষ শরীরচর্চার আগে শরীরের প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সেই প্রস্তুতি পর্ব হলো ওয়ার্ম আপ। এতে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, শরীরচর্চায় সময় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ধরুন, ৫ দিন শরীরচর্চার পর এক বা দুই সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার কেউ শরীরচর্চা শুরু করলেন। এক্ষেত্রে প্রথম দিনেই বেশি শ্রমসাপেক্ষ ব্যায়াম করতে গেলে চোট পাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। যার ফলে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকের মতে, বিরতি দিয়ে শরীরচর্চা করলে ধাপে ধাপেই করতে হবে, শরীর যেন সইতে পারে সেই সুযোগ দিতে হবে। আচমকা অতিরিক্ত শ্রমসাপেক্ষ শরীরচর্চা করার প্রবণতা বিপজ্জনক হতে পারে।
টানা বসে থাকা:
দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে কাজ বা বয়স্কদের চলাফেরা না করার অভ্যাসের কারণেও সমস্যা বাড়ে। বসে থাকলে দেহের রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। হাঁটু, কোমরের নড়াচাড়া হয় না বলে সাইনোবিয়াল ফ্লুইডের (অস্থিসন্ধি পিচ্ছিল রাখতে সাহায্য করে) সঞ্চালনও কমে যায়।

এই তরল তরুণাস্থি মজবুত রাখার কাজ করে। হাঁটাচলা করলে তা সঠিকভাবে সারা শরীরে সরবরাহ হয়। কিন্তু তা না হলে কিংবা একইভাবে বসে বা শুয়ে থাকলে পেশিও শক্ত হয়ে যায়। ফলে দেহের ভার গিয়ে পড়ে অস্থিসন্ধির ওপর। ফলে ব্যথাও বাড়ে।
ভুল জুতা পরিধান:
ক্রমাগত উঁচু হিল পরার অভ্যাসে পায়ে ব্যথা হয়। আবার জুতার কুশনিং ঠিক না থাকলেও তা শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারে না। ফলে অস্থিসন্ধিতে চাপ পড়ে ও ব্যথা হয়। দীর্ঘসময় হিল জুতা পরে থাকলে গোড়ালি উঁচু হয়ে থাকে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয় নষ্ট হয়। ব্যথা হয় অস্থিসন্ধিতে।

প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করা:
ভিটামিন ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব হলেও জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। হাড়ের ক্ষয় হলে, যন্ত্রণা হবেই। কোলাজেন কার্টিলেজ মেটাবলিজমে সাহায্য করে অস্থিসন্ধির ব্যথা প্রতিরোধ করে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমায়। প্রদাহের কারণেও অনেকসময় ব্যথা বাড়ে। সেক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে। তবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খান।
এনএম




