মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি। সব নারীর জীবনেই এই পর্যায় আসে। স্থায়ীভাবে মাসিক বা ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে মেনোপজ বলা হয়। এটি মোটেও সহজ কিছু নয়। মেনোপজের কারণে শরীরে যেমন পরিবর্তন আসে, তেমনি বদলে যায় মন-মেজাজ। সংসার, কাজকর্ম, সন্তান সব সামলে জীবনের মধ্যভাগে এসে যখন একটু স্বস্তিতে সময় কাটানোর কথা, তখনই জীবনে হাজির হয় মেনোপজ। দেখা দেয় নতুন সঙ্কট।
চল্লিশোর্ধ্ব বেশিরভাগ নারীই তাদের রজোনিবৃত্তির পর্যায়ে এসে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। সঙ্কোচের কারণে তা মুখ ফুটে বলতেও পারেন না। এই পর্যায়ে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যাওয়ার কারণে শরীরে অনেকরকম বদল আসে। মন-মেজাজে পরিবর্তনের পাশাপাশি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। যার মধ্যে লিভার অন্যতম।
বিজ্ঞাপন

৪৫ পেরিয়ে যাওয়ার পর অনেক নারীরই লিভারেই ফ্যাটের আধিক্য দেখা দিতে শুরু করে। এর নেপথ্যেও রয়েছে রজোনিবৃত্তি। পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের সময় নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
আরও পড়ুন-
শরীরের চর্বি কীভাবে বণ্টিত ও বিপাক হবে, তা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা রাখে ইস্ট্রোজেন। এর অভাবে পুরো প্রক্রিয়াটিই ব্যাহত হয়। শরীরে যখন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়, তখন চর্বি কোমর ও উরুর মতো শরীরের প্রান্তীয় অংশ থেকে সরে গিয়ে পেটের চারপাশের ভিসেরাল অংশ এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জমা হয়। তাই লিভারেও ফ্যাট জমতে শুরু করে। এছাড়া এসময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়। এটিও লিভারে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ায়।
বিজ্ঞাপন

লিভারে ফ্যাট জমা মানেই যে শরীরের ওজন অনেকখানি বেড়ে যাবে, এমন না-ও হতে পারে। অনেক সময়ে লিভারে ফ্যাট জমার উপসর্গগুলো দেখা যায় না। তাই ৪৫-এর পর কোনো লক্ষণ দেখা না গেলেও বছরে অন্তত একবার ফ্যাটি লিভার আছে কি না সেই পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।
এনএম




