শীতের শেষে এবং বসন্তের এই সময়ে শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনমনে সাধারণ একটি প্রশ্ন প্রায়ই দেখা দেয়—হাম কি সত্যিই ছোঁয়াচে রোগ? চিকিৎসকদের মতে, হাম কেবল ছোঁয়াচে নয়, বরং এটি পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত সংক্রমণশীল ভাইরাসজনিত রোগ। সচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়ার ফলে এই রোগ দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংক্রমণের প্রকৃতি ও ভয়াবহতা
বিজ্ঞাপন
হাম মূলত একটি বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় নির্গত ক্ষুদ্র জলকণা (ড্রপলেট) বাতাসের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
বাতাসে স্থায়িত্ব: আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সেই ঘরের বাতাসে হামের ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে।
সংক্রমণের হার: একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ ব্যক্তি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যদি তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা টিকা না থাকে।

বিজ্ঞাপন
লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগে ও পরে সংক্রমণ
হামের একটি বিশেষ দিক হলো, শরীরে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ৪ দিন আগে থেকেই রোগী অন্যের শরীরে ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে। আবার র্যাশ ওঠার ৪ দিন পর পর্যন্তও এই সংক্রমণ ক্ষমতা বজায় থাকে। ফলে অনেক সময় রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই পরিবারের অন্য সদস্যরা আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
হাম কীভাবে ছড়ায়?
১. সরাসরি সংস্পর্শ: আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বা তার ব্যবহৃত রুমাল, গামছা ও কাপড় ব্যবহার করলে।
২. বাতাস: বদ্ধ ঘরে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে।
৩. সাধারণ ব্যবহার্য বস্তু: দরজার হাতল বা টেবিল-চেয়ারে ভাইরাস লেগে থাকলে সেখান থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।

সুরক্ষা ও প্রতিকার
আইসোলেশন বা আলাদা রাখা: পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে তাকে অন্তত এক সপ্তাহ আলাদা ঘরে রাখা উচিত। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের থেকে দূরে রাখতে হবে।
টিকা দান: হাম প্রতিরোধের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো এমএমআর (MMR) টিকা। যারা ছোটবেলায় টিকা নেননি, তাদের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।
পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা জরুরি।
আরও পড়ুন: শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও কি হাম হতে পারে?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: হাম ছোঁয়াচে হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক সময়ে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শে উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা নিলে সাধারণত ২ সপ্তাহের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে শ্বাসকষ্ট বা তীব্র মাথাব্যথার মতো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
এজেড

