বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

স্লিম হতে চান? ভরসা রাখুন জাপানি কায়দা ‘হারা হাচি বু’ তে 

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

শেয়ার করুন:

স্লিম হতে চান? ভরসা রাখুন জাপানি কায়দা ‘হারা হাচি বু’ তে 

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভুঁড়ি দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থূলতা বা ওবেসিটির হার বিশ্বজুড়েই বাড়ছে। এমনটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ওবেসিটি মহামারী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। কিন্তু জাপানের বিষয়টি যেন ভিন্ন। দেশটির মানুষের গড় আয়ু বেশি আর শারীরিক গঠন বেশ সুগঠিত। 

'হু'-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানে স্থূলতার হার মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। কিন্তু কেন জাপানিদের শরীরে মেদ জমতে পারে না? তারা কি না খেয়ে থাকেন? নাকি মানেন কোনো প্রাচীন নিয়ম? 


বিজ্ঞাপন


hara-hachi-bu-1

হারা হাচি বু কী? 

জাপানিদের 'ফিট' থাকার রহস্য হলো তাদের জীবনযাপনের অতি সাধারণ কিছু অভ্যাস। প্রথম ও প্রধান মন্ত্রটি হলো — 'হারা হাচি বু'। জাপানি ভাষায় 'হারা' মানে পেট, 'হাচি' মানে ৮ আর 'বু' অর্থ অংশ। এই প্রাচীন কনফুসীয় দর্শনের মূল কথা হলো, পেট কখনই ১০০ শতাংশ ভর্তি করে খাওয়া যাবে না। অর্থাৎ পেটের ১০ ভাগের ৮ ভাগ বা ৮০ শতাংশ ভর্তি হলেই খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এর প্রধান বক্তব্যের উৎস হলো 'ওকিনাওয়ান স্টাডি', যা বিশ্বের দীর্ঘজীবী মানুষের জীবনধারা নিয়ে করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা।

জাপানি দার্শনিক একিকেন কাইহারা ১৭১৩ সালে তার প্রকাশিত 'ইয়োজোকুন' বইতে এই পদ্ধতির কথা প্রথম উল্লেখ করেন। পরে দেখা গিয়েছে, এর বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি রয়েছে। পেট ভরার সঙ্কেত মস্তিষ্কে পৌঁছতে অন্তত ২০ মিনিট সময় লাগে। অর্থাৎ মস্তিষ্কে পৌঁছনোর আগেই আমরা ১০-২০ শতাংশ অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলি। কিন্তু জাপানিরা তা করেন না। দীর্ঘদিনের অভ্যাসে তারা এই কৌশল রপ্ত করেছে।


বিজ্ঞাপন


hara-hachi-bu-2

খাবার পরিবেশনের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ 

জাপানিদের খাবার পরিবেশনের ধরনও পেট খালি রাখতে সাহায্য করে। তারা ছোট ছোট বাটি বা থালায় মেপে খাবার খান এবং খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করেন না। প্রতিটি দানা চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কে অনেক আগেই সিগন্যাল পৌঁছে যায় যে পেট ভরেছে। এছাড়াও কনকনে ঠান্ডা পানির বদলে ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করতে পছন্দ করেন জাপানিরা। গবেষকদের বক্তব্য, এতে শরীরে বিশেষ ধরনের 'হিট শক প্রোটিন' তৈরি হয়, যা মেদ ঝরানোর প্রক্রিয়াকে বেশ কয়েক গুণ ত্বরান্বিত করে।

চমক আছে হাঁটার ধরনেও 

সবচেয়ে বড় চমকটি লুকিয়ে আছে তাদের হাঁটার ধরনে। জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর চেয়ে জাপানিরা বেশি ভরসা রাখেন 'হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ওয়াকিং'-এ। যা জাপানি অধ্যাপক হিরোশি নোসে-এর অনবদ্য আবিষ্কার। 

walk

এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে ৫-১০ মিনিট ধীর গতিতে শরীর গরম করে পরের ১০ মিনিট খুব দ্রুত গতিতে হাঁটা এবং শেষে আবার ৫ মিনিট ধীরেসুস্থে — এই ছন্দবদ্ধ শরীরচর্চা বিপাকহার বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।

এনএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর