রক্তচাপ বশে রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মাত্রায় ওষুধ খাওয়া খুব জরুরি। তবে ওষুধের পাশাপাশি আরও অনেক কারণ থাকে যা নিঃশব্দে সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। শীতে প্রবল ঠান্ডায় শরীরের ধমনী, শিরা সঙ্কুচিত হয়ে যায়। মূলত শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতেই এই সঙ্কোচন হয়। রক্তচলাচলের নালি সঙ্কীর্ণ হয়ে যাওয়ার ফলে বেড়ে যায় রক্তচাপ।
শীতকালে কোন কারণগুলো রক্তচাপ বৃদ্ধির জন্য দায়ী? চলুন বিস্তারিত জানা যাক-
বিজ্ঞাপন

লবণ দেওয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার:
শীতের হিমেল আবহাওয়া গরম গরম মুখরোচক খাবার খেতে কার না ভালো লাগে? এসময় হিমায়িত খাবার, প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটবন্দি স্যুপ, ভাজাভুজি খাওয়ার প্রবণতা থাকেই। এই ধরনের খাবারগুলোতে অতিরিক্ত লবণ থাকে। ফলে রক্তচাপের সমস্যা থাকলে তা আরও বাড়তে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে পরিমিত লবণ দিয়ে রান্না করা খাবার খেলে এবং পাতে বাড়তি লবণ খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে গেলে শরীর ভালো থাকবে।
শীতের লোভনীয় খাবার:
পিঠা-পুলি, কেক, পেস্ট্রি, পায়েস, হালুয়া, গুড়ের মিষ্টি খাওয়ার সময়ও এই শীত। এই ধরনের খাবারে প্রচুর ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকে। কোলেস্টেরল বাড়তি এমন ব্যক্তির জন্য এই ধরনের ফ্যাট জাতীয় খাবার খুবই ক্ষতিকর। ফ্যাট কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়িয়ে ধমনীতে ‘প্লাক’ তৈরি করতে পারে। ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

শরীরচর্চার অভাব:
ঠান্ডায় সকলেই জবুথবু হয়ে যান, বিশেষত বয়স্করা। ফলে ভাঁটা পড়ে স্বাভাবিক হাঁটাচলাতে। যারা সকাল-বিকেল হাঁটাহাঁটি করেন, এই মরসুমে সেটিও বাদ দেন শীতের ভয়ে। আর শরীরচর্চা, হাঁটাচলার অভাবে বেড়ে যায় রক্তচাপ।
ওজন বৃদ্ধি:
শীতে খাওয়া-দাওয়ার আধিক্য এবং শরীরচর্চার অভাবে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এছাড়া, এসময় ঘামও কম ঝরে। পানি খাওয়া হয় কম। এসব কিছুর প্রভাব পড়ে শরীরে। ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে।

পানীয়র আধিক্য:
গরম ও কড়া পানীয় খাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে শীতে। ঘন ঘন চা-কফি আবার সান্ধ্য পার্টিতে মদ্যপান— সব কিছুই বাড়িয়ে দিতে পারে রক্তচাপ। বিশেষত যাদের রক্তচাপ বাড়তির দিকে থাকে, তাদের পানীয় নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। ঘন ঘন চা-কফির বদলে, চা পাতা ছাড়া ভেষজ গরম পানীয়, যেমন দারুচিনির পানি, আদা পানিতে চুমুক দেওয়া যেতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া জরুরি। প্রয়োজন দৈনন্দিন যাপনও হতে হবে নিয়ন্ত্রিত। এরপরেও রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এনএম

