ফুসফুস— শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা এবং শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেওয়ার কাজ করে। তাই সুস্থ থাকলে ফুসফুসের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত বায়ু দূষণে রোজ ক্ষতি হচ্ছে শ্বাসযন্ত্রের। ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে শুধু পরিষ্কার বাতাস ও ব্যায়ামই নয়, প্রয়োজন সঠিক পুষ্টিরও। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাবে ফুসফুস নষ্ট হতে থাকে। এটি কোন ভিটামিন?
বিজ্ঞাপন

যে ভিটামিনের অভাবে ফুসফুসের ক্ষতি হয়?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বাড়িয়ে দেয় ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি। অনেকেই মনে করেন, ভিটামিন ডি কেবল হাড়ের শক্তি বাড়ায়। কিন্তু শুধু হাড় মজবুত করা নয়, ফুসফুসের জন্যও এটি অত্যন্ত জরুরি।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং ফুসফুস অধিক সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ফলে হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভোগেন, তাদের শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি ফুসফুসে প্রদাহ কমাতে এবং কোষ মেরামতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে শরীর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভালোভাবে লড়াই করতে পারে। এটি অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে।
শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে এবং অক্সিজেন শোষণের প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর হয়।
ফুসফুসের জন্য ভিটামিন ডি এর পাশাপাশি ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই-ও গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা দূষণ ও ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করে। ভিটামিন ই সেল মেমব্রেন রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমায়। এসব ভিটামিনের ঘাটতি ফুসফুসকে দুর্বল করে দেয়, শ্বাসের সমস্যার কারণ হয়।

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর করতে করণীয়
ভিটামিন ডি এর সবচেয়ে ভালো উৎস রোদ। প্রতিদিন সকালে ২০-৩০ মিনিট রোদে থাকা শরীরের জন্য উপকারী। এছাড়াও খাদ্যতালিকায় রাখুন ডিম, মাশরুম, ফোর্টিফাইড দুধ, স্যামন মাছের মতো ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার। পাশাপাশি, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।
আরও পড়ুন-
ভিটামিন-ডি একটি স্নেহপদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন। অনেকসময়-ই একে ‘সাইশাইন ভিটামিন’ বলে। তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে। পাশাপাশি, মানুষের ত্বক রোদের সংস্পর্শে এলে শরীরে ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয়। সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, ভিটামিন ডি শরীরের প্রদাহ কমায়, ফলে টেলোমেরেস রক্ষা করে। যা টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং সংক্রমণের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়।

অতিরিক্ত ভিটামিন-ডি যেন শরীরের ক্ষতি না করতে পারে তার জন্য বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় এই ভিটামিনের সঙ্গে ভিটামিন-কে খাওয়ার পরামর্শ দেন। ভিটামিন-ডি যেখানে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি করে সেখানে ভিটামিন-কে হাড়ে ক্যালসিয়াম সঞ্চয়ের হার বৃদ্ধি করে। ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যায়। হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।
এনএম

