ক্রমশ বেড়েই চলেছে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্তের হার। প্রতিবছর অসংখ্য ব্যক্তি প্রাণ হারাচ্ছেন এই রোগে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই স্বাস্থ্য সমস্যা বাঁচার উপায় একটিই। তা হলো যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করা। কিন্তু এখানেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় কিছু ভুল ধারণা। যা অনেকসময় প্রাণহানীরও কারণ হতে পারে।
ফুসফুস ক্যানসার সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা চলুন জেনে নিই-
বিজ্ঞাপন

ফুসফুসের ক্যানসার শুধু ধূমপায়ীদের হয়
ধূমপান ফুসফুস ক্যানসারের একটি বড় কারণ হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। প্রায় ২০ শতাংশ ফুসফুস ক্যানসার নন-স্মোকারদের মধ্যে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের বায়ুদূষণ, অ্যাসবেস্টস বা রাডনে দীর্ঘমেয়াদি এক্সপোজার, পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি কারণেও এই ক্যানসার হতে পারে। তাই ধূমপান না করলেও নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি।
ফুসফুস ক্যানসারের উপসর্গ নেই
প্রাথমিক পর্যায় সাধারণত রোগটি নীরব থাকে। তাই বলে একদমই কোনো উপসর্গ নেই এই ধারণা ঠিক নয়। লম্বা সময় ধরে থাকা কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি— এগুলোকে হালকা সমস্যা মনে করে অনেকে উপেক্ষা করেন। কিন্তু এগুলোও ফুসফুস ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। লো-ডোজ সিটি স্ক্যান করলে প্রাথমিক পর্যায়েই টিউমার শনাক্ত হতে পারে।

দীর্ঘদিনের কাশি মানেই সংক্রমণ
বেশিরভাগ কাশিই ক্ষতিকর হয় না। টানা তিন সপ্তাহের বেশি যদি কাশি স্থায়ী হয়, বিশেষত কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা দেয় কিংবা অকারণে ওজন কমে যায় তাহলে এড়িয়ে যাবেন না। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করলে অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে। ব্রঙ্কোস্কপি সিটি স্ক্যান এমন ক্যানসারও শনাক্ত করতে পারে যা সাধারণ এক্স-রেতে ধরা পড়ে না।
ফুসফুস ক্যানসারের কার্যকর চিকিৎসা নেই
এই ধারণাও ভুল। আধুনিক চিকিৎসা বিপুলভাবে এগিয়েছে। এখন টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং প্রিসিশন মেডিসিন ইত্যাদির মাধ্যমে ফুসফুস ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়। মিনিমালি ইনভেসিভ ও রোবটিক সার্জারির মাধ্যমে দ্রুত আরোগ্য পাওয়া যায়।

শুধু বয়স্কদেরই ফুসফুস ক্যানসার হয়
বয়স বাড়লে ঝুঁকি বাড়ে এ কথা ঠিক। কিন্তু তরুণরাও নিরাপদ নয়। জেনেটিক প্রবণতা, দূষণ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক এক্সপোজার তরুণদের মধ্যেও রোগটি সৃষ্টি করতে পারে। এই ঝুঁকিগুলো জানা থাকলে তরুণরাও সময়মতো স্ক্রিনিং করাতে পারেন।
এনএম

