শীতের হাওয়া কাঁপন ধরাচ্ছে ছোট-বড় সবার শরীরে। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরবাসী সবাই কাঁপছে শীতে। আর একটু উষ্ণতা পেতে আলমারি, ওয়্যারড্রোব থেকে চটজলদি নামাচ্ছে ভাঁজ করে রাখা সোয়েটার। কিন্তু ঠান্ডা থেকে বাঁচালেও এই পোশাক অস্বস্তির কারণ হয়।
পোশাকের ওপর সোয়েটার পরলে তাও রক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু অনেকেই বলে খালি গায়ে উলের পোশাক পরলে গা চুলকাতে থাকে। ত্বকের বিভিন্ন অংশ লাল হয়ে দেখা দেয় র্যাশও। কিন্তু এমনটা হয় কেন?
বিজ্ঞাপন

ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, উলের পোশাকের কারণে ত্বকে র্যাশ হতে পারে। তবে সবসময় নয়। উলের আঁশ গায়ে ঘষা লেগে অনেক সময়ই ত্বকে অস্বস্তির সৃষ্টি করে। মূলত যাঁদের ত্বক অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিংবা যাদের এগজিমা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
ডার্মাটলজিস্টের মতে, এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের আবার উল থেকে অ্যালার্জিও হয়। উলের কৃত্রিম রং কিংবা পোশাক তৈরির রাসায়নিক থেকেও একইভাবে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন
সোয়েটার বা গরম পোশাক বাইরের ঠান্ডা থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে। একইসঙ্গে দেহের তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। শরীরের যে অংশে হাওয়া চলাচল করতে পারে না, সেই অংশে ঘাম হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, এমন পরিবেশেই ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গির বাড়বাড়ন্ত হয়। যে কারণে ত্বকে নানারকম অস্বস্তি হতে শুরু করে। ত্বকে র্যাশও বের হয়।
ত্বকের অস্বস্তি না অ্যালার্জি?
ত্বকের অস্বস্তি আর অ্যালার্জি কিন্তু এক নয়। আঁটসাঁট পোশাক পরা মাত্রই অনেকের ত্বকে অস্বস্তি হয়। যদিও তা সাময়িক। কিছুক্ষণের মধ্যে তা আবার ঠিকও হয়ে যায়। কিন্তু অ্যালার্জি বা ‘কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস’ বিষয়টা একেবারেই আলাদা।

এক্ষেত্রেও ত্বকে অস্বস্তি হয়। তবে তা বেশ গুরুতর। ত্বক লাল হয়ে যায়, চুলকায়। ফুলেও যেতে পারে। এই সমস্যা সহজে যায় না। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধেরও প্রয়োজন পড়ে।
সোয়েটারজনিত অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে করণীয়
যাদের ত্বক স্পর্শকাতর বা অতিরিক্ত শুষ্ক হয়, তারা কখনওই খালি গায়ে সোয়েটার পরবেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, সুতির পাতলা কোনো পোশাক পরে তার ওপর গরম পোশাক পরতে পারেন। সোয়েটার কেনার সময়েও সতর্ক থাকতে হবে। ত্বকের জন্য নিরাপদ, নরম এবং প্রাকৃতিক বা ভেষজ উপাদানে তৈরি সোয়েটার ব্যবহার করতে পারেন।
এনএম

