রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

বর্ষাকালে এসব মাছ খেলে হতে পারে পেটের সংক্রমণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৫, ১২:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মাছ

বর্ষাকাল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য নানা চ্যালেঞ্জ ডেকে আনে। এই সময় বায়ুমণ্ডলে উচ্চ আর্দ্রতা, পানি দূষণ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। আর এই কারণে আমরা নানা ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকি। এই সময় বাড়ে নতুন নতুন স্বাস্থ্য ঝুঁকি!

বর্ষাকালে যেমন কাঁচা ও পাতাযুক্ত সবজি বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, তেমনি মাছ খাওয়া থেকেও দূরে থাকা উচিত। সাধারণ দিনে মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হলেও বর্ষাকালে এটি খেলে স্বাস্থ্যের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। কখনও কখনও মাছ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপজ্জনক প্রমাণিত হয় এই সময়।


বিজ্ঞাপন


বিশেষজ্ঞরা বার বার বলেন বর্ষাকালে আরও বেশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে এই সময় আমাদের খুব সাবধানে খাবার নির্বাচন করতে হবে। বর্ষাকালে মাছ খেলে পেটের সংক্রমণ, খাদ্যে বিষক্রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড এবং আরও অনেক ধরণের রোগ হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, বর্ষাকালে পানি দূষণের ঝুঁকি বেশি থাকে কারণ এটি কোনো কোনো মাছের প্রজনন মৌসুম, যা মাছ এবং সামুদ্রিক খাবারকে বাহক হিসেবে ধারণ করে। তাই বর্ষাকালে মাছ এবং সামুদ্রিক খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।

মাছ

এর কারণ হল বর্ষাকালে নর্দমা, ড্রেন ইত্যাদির পানি নদী, পুকুর এবং সমুদ্রের সঙ্গে মিশে যায়, যার ফলে পানি সংক্রামিত হয় এবং এই পানিতে বসবাসকারী মাছগুলোও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়।


বিজ্ঞাপন


যদি এই ধরনের মাছ খাওয়া হয়, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক বৃষ্টির সময় মাছ খাওয়ার বিপদ কী এবং কেন।

এই সময় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পয়ঃনিষ্কাশন, শিল্প বর্জ্য এবং রাসায়নিক পদার্থ জলাধারে প্রবেশ করে। আর তাই এই ধরনের পানিতে বসবাসকারী মাছগুলোতে পারদ এবং সীসার মতো বিষাক্ত পদার্থ থাকার সম্ভাবনা থাকে।

সংক্রমণের ঝুঁকি:আমরা যখন এই মাছ খাই, তখন এগুলো আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এর ফলে কাঁপুনি, পেশী দুর্বলতা, হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা এবং ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বর্ষাকালে মাছের ধারণক্ষমতাও কম থাকে। এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিছু দোকানে পুরনো মাছ টাটকা দেখানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করে বিক্রি করার ঝুঁকিও থাকে। এই ধরনের মাছ খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

মাছ২

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে

বর্ষাকালে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই এই সমস্যাগুলো দ্রুত দেখা দিতে পারে। এই সব কারণেই চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই সময় মাছ খাওয়া কমানোর পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে সম্পূর্ণ ভালো করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং ভালোভাবে ভাজা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।

হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে

বর্ষাকালে হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে যদি কেউ ভারী খাবার বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক খাবার খান, তাহলে হজম ক্ষমতা অবশ্যই নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষাকালে পুকুর এবং নদীর জল খুব নোংরা থাকে এবং মাছরা এই পানিতেই বাস করে।

এমন পরিস্থিতিতে মাছরাও সংক্রামিত হয় এবং সেগুলো খেয়ে আমরাও সংক্রামিত হই। এই কারণেই খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সংক্রামিত মাছ খেলে কলেরা, ডায়রিয়া, জন্ডিস এমনকি টাইফয়েডের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মাছের ডিম বিপজ্জনক হতে পারে

বর্ষাকাল মাছের প্রজননের সময়। এই সময়ে তাদের ডিমগুলো অত্যন্ত সংক্রামিত হয়। এই ডিমগুলো খেলে গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। কখনও কখনও খাদ্যে বিষক্রিয়া এতটাই বিপজ্জনক যে এটি মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। এর পাশাপাশি পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, বমির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

fishpic

তাই মনে রাখবেন বর্ষাকালে যতটা সম্ভব মাছ খাওয়া এড়িয়ে চলুন কারণ এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

অর্থাৎ বর্ষায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে মাছ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। মাছের পরিবর্তে, আমরা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন অঙ্কুরিত শস্য, দই, দুগ্ধজাত দ্রব্য, রান্না করা মুরগি বা খাসির মাংস বেছে নিতে পারি। এগুলি শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন অ্যাপেল সিডার ভিনেগার খাচ্ছেন? জানুন শরীরে কী ঘটছে

কিছু আমিষাসী এই সময় প্রতিদিন ডাল, কালো মটর এবং ছোলার মতো খাবার খেয়ে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। এছাড়াও, বর্ষাকালে শরীরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমতে না দেওয়ার জন্য বেশি করে শুকনো খাবার খাওয়া ভাল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর