শীতে যে কেবল সর্দি-কাশির সমস্যা বাড়ে এমনটা নয়। এসময় চোখেও নানা সমস্যা দেখা দেয়। চোখে জ্বালাভাব, চুলকানি, চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা বাড়ে শীতকালে।
মূলত শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে বেড়ে যায় চোখের শুষ্কতা। দেখা দেয় ড্রাই আইস সমস্যা। ঠান্ডা বাতাস, রোদ, ধুলাবালি সবকিছুই প্রভাব ফেলে চোখের ওপর। তাই শীতে চোখের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।
বিজ্ঞাপন

শীতকালে ড্রাই আইসের সমস্যা খুব সাধারণ। এই সমস্যা হলে চোখে জ্বালা ভাব বাড়ে, রোদে চোখ খোলা রাখতে কষ্ট হয়, ঘন ঘন চোখের পাতা পড়ে। এসমস্যা এড়াতে চোখে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া রোদে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করুন। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে ফেলুন।
আরও পড়ুন- চোখ থেকে অকারণে ঘন ঘন পানি ঝরে কেন?
শীতে রোদের তেজ কম থাকলেও ইউভি রশ্মি কিন্তু সারা বছরের মতোই ক্ষতিকর। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি চোখের রেটিনা ও কর্নিয়ার ক্ষতি করে। ল্যাপটপ, মোবাইলের স্ক্রিন চোখ রাখলে যতটা ক্ষতি হয়, একই ক্ষতি হয় সূর্যের আলোতেও। তাই রোদে বের হলে অবশ্যই সানগ্লাস পরুন।
বিজ্ঞাপন

শীতকালে বেড়ে যায় সব ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি। ভাইরাল কনজেক্টিভাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এসময় অন্যান্য ভাইরাল ইনফেকশনও হতে পারে চোখে। এসব সমস্যা এড়াতে ঘন ঘন চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। চশমা পরলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। লেন্স ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রেও সচেতন থাকুন।
ধুলোবালির কারণে অনেকসময় চোখে অ্যালার্জি হতে পারে। চোখে চুলকানি, লালচে ভাব, চোখ দিয়ে পানি পড়ার সমস্যা বাড়ে। তাই বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখতে চেষ্টা করুন। রাস্তায় বের হলে সানগ্লাস বা চশমা ব্যবহার করুন। চুলকানি হলে নোংরা হাতে চোখ রগড়াবেন না। প্রয়োজনে অ্যান্টি-অ্যালার্জি আই ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।

চোখ ভালো রাখতে চাইলে কমাতে হবে স্ক্রিন টাইম। পাশাপাশি ২০-২০-২০ রুল মানতে পারেন। অর্থাৎ, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফিট দূরে তাকান। চোখে ঠান্ডা পানির ঝাঁপটা দিতে পারেন। এ ছাড়া ভিটামিন এ, সি, ই, জিঙ্ক ও লুটেইন সমৃদ্ধ খাবার খান। এই ধরনের পুষ্টি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
এনএম

