রীতি অনুযায়ী অনেকে শিশুর জন্মের পর তার মুখে মধু ছোঁয়ান। বিশেষত পরিবারের মুরুব্বি দাদী-নানীরা। মুখে মধু দিলে নাকি শিশুও মধুর মতো মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে। এমনটা বলা হয়। এমনকি কাউকে কর্কশ ভাষায় কথা বলতে দেখলেও কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলে থাকেন, ‘তোমার মুখে কি জন্মের পর কেউ মধু দেয়নি?’
আসলেই কি তাই? মুখে মধু দিলে কি সত্যিই শিশু মিষ্টি কথা বলে? এই কাজের কি কোনো স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে? নাকি উল্টা নবজাতকের ক্ষতি হয়? সব প্রশ্নের উত্তর জানুন এই প্রতিবেদনে-
বিজ্ঞাপন

মধুর পুষ্টিগুণ
একাধিক পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি প্রাকৃতিক উপাদান মধু। এতে রয়েছে অসংখ্য ভিটামিন ও খনিজ। ফাইবার, প্রোটিন ও প্রাকৃতিক সুগারের উৎস এটি। এছাড়াও মধুতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েডস ও ফেনোলিক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এসব পুষ্টিগুণ পেতে তাই নিয়মিত এক চামচ মধু খান অনেকে। তাতে শরীরে অনেক সমস্যাই দূর হয়। এত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবারটি সদ্যোজাতের জন্য কতটা উপকারি?
নবজাতকের মুখে মধু
বিজ্ঞাপন
সদ্যোজাতের মুখে মধু দিতে মানা থাকেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, সদ্যোজাত শিশুর মুখে মধু ছোঁয়ানোর এই রীতি মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। উল্টো এতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শিশুকে কেবল স্তন্যপান করানো যাবে। এসময় মায়ের বুক ব্যতীত কিছুই খাওয়ানো যাবে না। এমনকি পানিও না।
মধু থেকে নবজাতকের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা
জন্মের পর শিশুর মুখে মধু ছোঁয়ালে লাভ তো হয়ই না, উল্টো স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, এতে শিশুর বোটুলিজম নামক এক রকমের প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। মধুতে থাকতে পারে ক্লস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম নামক এক রকমের জীবাণু। এই জীবাণু মধুর মাধ্যমে সদ্যোজাতের শরীরে প্রবেশ করলে এই প্রাণঘাতী রোগটি হতে পারে।
বোটুলিজমের লক্ষণ
নবজাতক শিশু বোটুলিজম রোগে আক্রান্ত হলে বেশ কিছু লক্ষণও প্রকট হয়। এই বিষয়ে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, এই জীবাণু দ্বারা সদ্যোজাত সংক্রমিত হলে শিশু হঠাৎ করে দুর্বলবোধ করে। তাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। বোটুলিজম হলে শিশুর খাওয়া-দাওয়া কমে যায়। এমনকি বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। দেখা দিতে পারে বিভিন্ন রকমের নার্ভের সমস্যা।

জন্মের পর শিশুকে মধু খাওয়ানো কি সুন্নত?
অনেকে বলে থাকেন, জন্মের পর নবজাতককে মধু খাওয়ানো সুন্নত। এ কথা শুদ্ধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো হাদিসের মাধ্যমে অথবা কোনো কাজের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়নি। রাসুলুল্লাহ (সা.) কাউকে মধু খাওয়াতে বলেছেন, অথবা মধু খাইয়েছেন, এমনটি প্রমাণিত হয়নি।
তবে একটি মাসআলার নিয়ে আলেমদের বক্তব্য আছে। তা হচ্ছে, একটি শিশুকে রাসুল (সা.)-এর কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল। নবী (সা.) একটু খেজুর চিবিয়ে খুব মসৃণ ও নরম করে, শিশুর উপযোগী করে শিশুর মুখে দেন। এটাকে বলা হয়ে থাকে ‘তাহনিক’। এর সঙ্গে মধুর কোনো সংযোগ নেই।

শিশুকে মধু খাওয়ানোর সঠিক বয়স
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের মধু না খাওয়ানোই উচিত। বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ চিকিৎসকই এই বিষয়ে একমত।
তাই এখন থেকে নবজাতকের মুখে আর মধু দেবেন না। বরং ১ বছরের পর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তারপরই মধু খাওয়ান।
এনএম

