সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

বৃক্ষ মেলায় সাড়ে তিন কেজি ওজনের আম

আসাদুজ্জামান লিমন
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৩, ০২:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বৃক্ষ মেলায় সাড়ে তিন কেজি ওজনের আম

গাছে গাছে ধরে আছে হরেক রঙের আম। কোনটা লম্বা, কোনো আবার গোলাকৃতির। এসব আমের রঙ সাধারণ আমের মতো সবুজ কিংবা হলুদ নয়। বেগুনি কিংবা জারুল ফুলের রঙ যেনো আমার গা ছুঁয়েছে। শুধু রঙ নয়, আকারেও আছে বৈচিত্র্য। পেল্লাই সাইজের আম যেমন আছে তেমনি ছোট আকৃতির লম্বাটে আমও আছে। 

বাহারি এই আমের দেখা মিলল জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৩ এর আসরে। ৫ জুন থেকে এই মেলা শুরু হয়েছে। মেলা চলছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (চীন মেত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) সংলগ্ন মাঠে। এই মাঠে আগে বাণিজ্য মেলা হতো। মেলা চলবে ১২ জুলাই পর্যন্ত। এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রবেশের জন্য টিকিট লাগে না। 


বিজ্ঞাপন


mangoএই মেলায় দেখা মিলল সাড়ে তিন কেজি ওজনের আমের। ছয় থেকে সাত ফুট উচ্চতার একটি গাছে ঝুলছে এই আম। এই জাতের আমের নাম ব্রুনাইকিং। এই জাতের আম গাছ ছাড়াও বৃক্ষ মেলায় শতাধিক প্রজাতির আম গাছ বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের মনে বিশ্বাস জন্মানোর জন্য আমসহ গাছ বিক্রি হচ্ছে। জাত ও গাছের আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। 

জাতীয়ভাবে আয়োজিত দেশের বৃহৎ এই বৃক্ষ মেলায় ফলদ গাছের পাশাপাশি বনজ গাছও বিক্রি হচ্ছে। আছে গাছ দিয়ে ঘর সাজানোর নানা উপকরণও। এছাড়াও মিলবে জৈব সার, রাসায়নিক সার, মাটি ও প্লাস্টিকের টব, কাপড়ের তৈরি গাছ লাগানোর টবসহ উদ্ভিদ ও কৃষি সংশ্লিষ্ট নানা সামগ্রী। এমনকি বৃক্ষ মেলায় সরকারের বন বিভাগ সুমিষ্ট পাকা আনারসও বিক্রি করছে। এসব আনারস মেলে থেকে কিনে সেখানেই বসে খাওয়ার সুযোগ আছে। 

mangoবিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিয়ে এই প্রর্দশনীতে অংশ নিয়েছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি নার্সারিতে মেলে সাশ্রয়ী দামে গাছ। বেসরকারি নার্সারির গাছের চারার দাম বেশি। তবে তাদের কাছে বিক্রি হয় বিভিন্ন জাতের ফুল ও ফলের চারা। ক্রেতা টানতে এসব গাছের গায়ে ট্যাগ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। 

মেলায় কথা হয় মোহাম্মদপুর থেকে আসা বৃক্ষপ্রেমী অনুজ কুমারের সঙ্গে। তিনি বলেন, একই জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ দেখা ও কেনার সুযোগ নিতে এই মেলায় আসা। 


বিজ্ঞাপন


তিনি মেলা থেকে কয়েক প্রজাতির ফুল ও ফলের চারা সংগ্রহ করেছেন। 

এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমি পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকি। কিন্তু আমার শেকড় গ্রামে। গ্রামের বাগানো লাগানোর জন্য কিছু গাছের চারা নিতে মেলায় এসেছি। এখানে যেসব গাছ বিক্রি হচ্ছে সেগুলো অন্য কোথাও তেমন একটা পাওয়া যায় না। 

মেলায় ঢাকার বিভিন্ন নার্সারির পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় গড়ে ওঠা নার্সারিগুলো বিক্রি ও প্রদর্শনীর জন্য অংশ নিয়েছেন। এদের সংখ্যাই বেশি। 

melaমেলায় কয়েক শ প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বিক্রেতারা এগুলোর দাম হাঁকছেন বেশি। এমনটাই অভিযোগ করেন রইসুল নামের এক ক্রেতা।

তিনি বলেন, বৃক্ষমেলায় যেসব গাছ বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর দাম ঢাকার অন্যসব নার্সারির তুলনায় বেশি। সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি ও প্রদর্শনীর জন্য বেশ কিছু জাতের চারা এনে মেলা প্রাঙ্গন সাজিয়ে। এসব গাছের চারার দাম কম। 

রইসুলের কথায় সত্যতা মিলল। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের বাঁশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে কয়েক প্রজাতির বাঁশের চারা এনে বিক্রি করছেন। এসব চারা পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়। এ স্টলে আরও বিক্রি হচ্ছে চাপালিশ, কোকোসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা। এসবের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু। 

treeকলমের গাছের চাহিদা বেশি

কলম ও কাটিং করা গাছের চাহিদাই বৃক্ষমেলায় বেশি। আম, পেয়ারা, আমড়া, লিচু, লটকন, কমলা, লেবুসহ বেশ কিছু জাতের গাছের কলম ও কাটিং করা চারার চাহিদাই বৃক্ষমেলায় বেশি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলম ও কাটিং করা গাছে দ্রুত ফলন আসে, তাই এসব গাছের চাহিদাই বেশি। তবে বীজের চারার চেয়ে এসব চারার দাম বেশি।

বৃক্ষমেলার সময়সূচি

বৃক্ষ মেলা ২০২৩ প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকে। মেলা শুরু হয়েছিল ৫ জুন। চলবে ১২ জুলাই পর্যন্ত। মেলায় প্রবেশের জন্য টিকিট লাগে না। কেউ যদি ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল নিয়ে মেলায় আসেন তবে তাদের পার্কিং ফি দিতে হবে না। তবে নিজ দায়িত্বে এসব বাহন মেলার প্রধান ফটকের দুই পাশে পার্কিং করা যাবে। 

এজেড

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর