আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলায় নিজেদের পক্ষে লড়তে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন না সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ পাঁচ আসামি। তাদের করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সদস্যদের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিদেশি আইনজীবী চেয়ে আবেদন করা অন্য তিনজন হলেন— সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রূপা।
বৈঠক সূত্র জানায়, আইনি জটিলতা ও নজির না থাকার কারণ দেখিয়ে আবেদনগুলো নাকচ করা হয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশের আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনার জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের কোনো প্রচলিত রেওয়াজ নেই; শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বহু দেশেও বিদেশি আইনজীবীদের শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না।
দ্বিতীয়ত, কোনো বিদেশি আইনজীবী পেশাগত কোনো অসদাচরণ করলে তাকে জবাবদিহি বা শাস্তির আওতায় আনার কোনো বিধান বিদ্যমান বার কাউন্সিল আইনে নেই। ফলে তাদের আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মনে করে কাউন্সিল। তবে আসামিদের পক্ষে নিযুক্ত স্থানীয় বা দেশি আইনজীবীদের পরামর্শক হিসেবে বিদেশি আইনজীবীরা সহায়তা করতে পারবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান ও জুনাইদ আহমেদ পলক। এ ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারের মুখোমুখি জিয়াউল আহসান। অন্যদিকে ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযানের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রচারের অভিযোগে বিচারের মুখে রয়েছেন সাংবাদিক ফারজানা রূপা।
নিজেদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে এই পাঁচজন সম্প্রতি বার কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন।
সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বার কাউন্সিল সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এটা এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার পেছনে সুস্পষ্ট কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদনের পর লিখিত আকারে প্রকাশ করা হবে।
আরএনবি/এফএ




