বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ৪ লেনের রেললাইন নির্মাণে বাধা কাটল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ৪ লেনের রেললাইন নির্মাণে বাধা কাটল
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান কাজ এবং এর নিচ দিয়ে চার লেনের রেলপথ নির্মাণকাজে দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক আদেশের ফলে সরকারের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আর কোনো আইনি বাধা নেই।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালত সরকারের পক্ষে এ আদেশ দেন। 

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদেশে আদালত স্পষ্ট করেছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং এর নিচে চার লেনের রেললাইন নির্মাণে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বাধা থাকবে না। তবে জমির মালিকানার স্বপক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ বা ‘অ্যাওয়ার্ড মানি’ পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজধানীর মগবাজারের পেয়ারাবাগ অংশের জমির মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং এ এম মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মূলত এর জেরেই বিগত সাত বছর ধরে ওই অংশের উন্নয়ন কাজ বন্ধ ছিল।

মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি ছিল, ২০১৯ সালে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে তিনি মামলা করেন এবং সে বছরের ২৯ মে তার পক্ষে রায় আসে। তখন ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত না থাকায় সরকার আপিল করতে পারেনি। পরবর্তীতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয় এবং চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের পক্ষে রায় আসে।

ট্রাইব্যুনালের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এ এম মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত সেখানে স্থিতাবস্থা জারি করেন। ফলে কাজ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সেটেলমেন্ট অফিসারের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন দায়ের করা হয়।

বুধবার বিকেলে অবকাশকালীন বিচারপতির বিশেষ অনুমতি নিয়ে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী। অপরপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. নুরুল ইসলাম।

শুনানি শেষে চেম্বার আদালত উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে আদেশ দেন।

আরএনবি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর