রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

জুলাইয়ে গণহত্যার খবর লুকাতেই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়: প্রসিকিউটর তামিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

জুলাইয়ে গণহত্যার খবর লুকাতেই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়: প্রসিকিউটর তামিম
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম

জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো ‘গণহত্যার’ খবর দেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আড়াল করতেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রসিকিউটর তামিম দাবি, ইন্টারনেট বন্ধের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম দুই ‘কুশীলব’ ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

জয় ও পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এদিন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ঐ সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে  তামিম বলেন, গত ১৫ জুলাই তথ্যপ্রতিমন্ত্রী পলক ওই সাক্ষীকে দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোর-জি ও থ্রি-জি ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরদিন ১৬ জুলাই আবু সাঈদসহ ছয়জন নিহত হওয়ার পর পলক ও জয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিটিআরসির একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন।

তিনি জানান, এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও বৈঠক করে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন। আদালতে দেওয়া সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসব বিষয় উঠে এসেছে। একইসঙ্গে অভিযোগের সপক্ষে পাঁচটি নথিও উপস্থাপন করা হয়েছে।

‘পদ্ধতিগত অপরাধ হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ’

উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশের বিষয়েও এদিন কথা বলেন প্রসিকিউটর তামিম।

তিনি বলেন, ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরা ও এর আশপাশের কয়েকটি থানা এলাকায় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যার ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েকজন নিহত হন।

তামিম আরও বলেন, নিহতদের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সরকারের নিপীড়নের সমালোচনা শুরু হয়। এরপর পদ্ধতিগত অপরাধ হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার, যেন মানুষ এই গণহত্যার খবর জানতে না পারে।

তামিম বলেন, পরদিন ১৯ জুলাই যখন আবারও একইভাবে গণহত্যা পরিচালিত হয় এবং সেই খবর মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছিল, ঠিক তখন ১৯ জুলাই রাতে সরকারি সিদ্ধান্তে কারফিউ জারি করা হয়। এরপর ২০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এভাবে নির্বিচারে সারাদেশে আন্দোলনকারীদের হত্যা ও আহত করা হয়।

উত্তরায় ১১ নিহতের ঘটনায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়টি তুলে ধরে এই প্রসিকিউটর বলেন, আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ, চাক্ষুষ সাক্ষীসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থাপন করতে পারব। আদালতে এই মামলা আমরা প্রমাণ করতে পারব বলেই বিশ্বাস করি।

আরএনবি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর