রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

২৫০ টাকায় গরুর মাংস: আমদানির অনুমতি চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

২৫০ টাকায় গরুর মাংস: আমদানির অনুমতি চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ
ছবি: সংগৃহীত

খুচরা বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনতে জীবন্ত গবাদিপশু ও হালাল প্রক্রিয়াজাত মাংসের অবাধ বাণিজ্যিক আমদানির অনুমতির দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) ডাকযোগে এবং ইমেইলের মাধ্যমে সরকারের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন)।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নোটিশের প্রাপকরা হলেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান।

নোটিশে বলা হয়েছে, ১৮ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের প্রধান ও পছন্দের আমিষের উৎস গরুর মাংস। কিন্তু বর্তমানে খুচরা বাজারে গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় ওঠানামা করছে। কৃত্রিম এই উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাজার থেকে ছিটকে পড়েছে, যা দেশে তীব্র পুষ্টি সংকট তৈরি করেছে।

দেশীয় খামারিদের সুরক্ষার যুক্তিতে পশু আমদানিতে নিষেধাজ্ঞাকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে নোটিশে অর্থনীতির ‘তুলনামূলক সুবিধার তত্ত্ব’ তুলে ধরা হয়।

সেখানে উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত উৎপাদন খরচ কমাতেই বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করে। একইভাবে, দেশে পশু পালনের খরচ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বাংলাদেশেরও উচিত ভারত, মিয়ানমার, মঙ্গোলিয়া ও ব্রাজিলের মতো মাংস উদ্বৃত্ত দেশগুলো থেকে গবাদিপশু ও মাংস আমদানি করা।

ক্ষুদ্র খামারি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে আমিষ থেকে বঞ্চিত করাকে ‘সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছেন এই আইনজীবী।

নোটিশে বলা হয়, পুষ্টি ও সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য পাওয়া নির্বাহী বিভাগের কোনো দয়া-দাক্ষিণ্যের বিষয় নয়। এটি সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) এবং ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের মৌলিক ও জীবন ধারণের অধিকার।

নোটিশে সরকারের কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:

১. দেশে জীবন্ত গবাদিপশু (গরু/ষাঁড়) বাণিজ্যিক আমদানির ওপর সব আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা এবং বাধা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।

২. বিশ্বের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে সার্টিফাইড হালাল প্রক্রিয়াজাত গরুর মাংস অবাধে আমদানির অনুমতি দেওয়া।

৩. এনবিআর ও ট্যারিফ কমিশনের মাধ্যমে শুল্ক যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে খুচরা বাজারে গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল করা।

৪. খাদ্যের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা ও পুষ্টির স্তর উন্নত করে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করা।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে নোটিশদাতাকে লিখিতভাবে না জানালে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মাহমুদুল হাসান।

আরএনবি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর