রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ আসামি, যাদের মধ্যে ৩০ জনই পলাতক।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এদিন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
ইনু, দীপু মনি ও লতিফ সিদ্দিকী ছাড়াও বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
মামলার পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
পলাতকদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক লে. জেনারেল মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
মামলার পূর্বাপর
গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পাশাপাশি গ্রেপ্তার আসামিদের হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের ঠিকানায় খুঁজে না পেয়ে ‘নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট’ (এনইআর) দিলে গত ৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেয়।
১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের ‘পলাতক’ ঘোষণা করে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বুধবার (৭ অক্টোবর) অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ঠিক করে দেয় আদালত।
প্রসিকিউশনের আনা দুটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।
আর দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিবরণ রয়েছে, যেখানে ২০ জনের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরএনবি/এসআই




