দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ফৌজদারি ও রিট আবেদনের (মোশন) জট খুলতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সব বেঞ্চে টানা তিন দিন শুধু মোশন শুনানির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ আইনজীবীরা।
আগামী ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীবৃন্দ’-এর পক্ষে আইনজীবী হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘হাইকোর্ট বিভাগে বিপুল সংখ্যক ফৌজদারি ও রিট মোশন দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মানুষের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, জামিন ও গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষার মতো মৌলিক অধিকার এসব আবেদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
‘একইভাবে রিট মোশনের ক্ষেত্রেও নাগরিক অধিকার, চাকরি ও সম্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত বিচারিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন এসব আবেদন পড়ে থাকায় বিচারপ্রার্থীরা অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।’
স্মারকলিপিতে আগামী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাইকোর্টের সব উপযুক্ত বেঞ্চে মোশনের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করার বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। এতে দীর্ঘদিনের মামলাজট অনেকাংশে নিরসন হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় হবে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।
মোশন শুনানি আটকে থাকায় বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ আছে যে, ছুটির আগে মোশন কোর্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে সব মোশন নিষ্পত্তি করে যাওয়া যায়। কিন্তু আমরা দেখছি, সাত-আট মাস আগের মোশনও আমাদের হাতে পড়ে আছে।’
আইনগত জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ দিন পর এফিডেভিটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে মোশন বাতিল হয়ে যায়। এতে বিচারপ্রার্থীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি আমরা আইনজীবীরাও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারি না।’
এর আগে দুটি ছোট ছুটির আগেও প্রধান বিচারপতি মোশন নিষ্পত্তিতে কোনো উদ্যোগ নেননি— এমন অভিযোগ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আমাদের স্মারকলিপির আলোকে প্রধান বিচারপতি জুডিশিয়ারির সম্মান রক্ষার্থে এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের স্বার্থে আগামী তিন দিন সব বেঞ্চকে (দেওয়ানি, ফৌজদারি ও রিট) মোশন বেঞ্চ হিসেবে ঘোষণা করবেন।’
একই দাবিতে সোচ্চার আরেক আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ‘আমাদের অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি। বারের সভাপতি সম্প্রতি একটি কথা বলেছেন, যা সারা বাংলাদেশে দাবানলের সৃষ্টি করেছে; কারণ মানুষ দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘লম্বা ছুটির আগে সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহ্য। কিন্তু আমরা দেখলাম, প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে তেমন কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলো না। আর মাত্র তিন দিন বাকি আছে। এই তিন দিনও যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলেও বহু মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।’
মামলাজট নিরসনে প্রধান বিচারপতি জরুরি ভিত্তিতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে সাধারণ আইনজীবীরা প্রত্যাশা করছেন বলে জানান তিনি।
আরএনবি/এএম




