সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের দেওয়া বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নেতা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাজনৈতিক বিচারপতিদের অপসারণ এবং আপিল বিভাগে বেঞ্চ বাড়ানোরও দাবি জানান তিনি।
গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ করার ঘটনায় মাহবুব উদ্দিন খোকনের আচরণ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংসদে আইনমন্ত্রীর সমালোচনামূলক বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেলের সমালোচনা করে খোকন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল হু ইজ হি হিয়ার? সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইনজীবীরা তাঁকে ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। আইনজীবী ও বিচারপতিদের বিষয়ে তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অশোভন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যই ইররেলেভেন্ট। আমাদের আলোচনায় তিনি কেউ নন। তিনি তো সাবেক হয়ে গেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন, তাহলে কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন—এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন খোকন।
দুর্নীতিমুক্ত করতে এক মাসের আল্টিমেটাম
প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ করার ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সব আইনজীবীরই বড় উদ্বেগ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। মামলা তদবির, কজলিস্ট টানানো ও শুনানি—সব জায়গাতেই দুর্নীতি রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত কিছু জুডিশিয়াল অফিসারের দুর্নীতির বিষয়ে আইনজীবীরা তাঁকে জানিয়েছেন।
এসব অনিয়ম দূর করা নিজের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের যদি তদবির করতে হয়, টাকা দিতে হয়, তাহলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আগামী এক মাসের মধ্যে আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ ও সারা বাংলাদেশের প্রতিটি আদালতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। যেসব জুডিশিয়াল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রত্যাহার করতে হবে।
রাজনৈতিক বিচারপতিদের অপসারণের দাবি
বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের সময়ে অনেক বিচারপতির আচরণ ছিল রাজনৈতিক। তাঁরা এখনো সুপ্রিম কোর্টে বহাল আছেন।
অতীতের আচরণের কারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে রেফারেন্স পাঠানোর দাবি জানান তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদ
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবকাঠামোগত সংকটের কথা তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকবে কেন? আইনজীবীদের বসার জায়গা নেই, কোনো ভবন নেই। অথচ আদালতের কাছে বস্তি রয়েছে।
এ বিষয়েও এক মাসের সময়সীমা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদ করে আইনজীবীদের বসার জন্য অন্তত অস্থায়ী শেড করে দিতে হবে। তা না হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। এর দায়দায়িত্ব আইনজীবীদের ওপর বর্তাবে না।
পরবর্তী সময়ে সেখানে আইনজীবীদের জন্য ভবন, চেম্বার ও হলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বেঞ্চ গঠন ও জরিমানা প্রত্যাহারের দাবি
মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে আসন্ন অবকাশকালীন ছুটি শেষে আপিল বিভাগে কমপক্ষে তিনটি বেঞ্চ গঠনের দাবি জানান খোকন। প্রয়োজনে নতুন বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া সম্প্রতি আপিল বিভাগে এক জুনিয়র আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার প্রসঙ্গ টেনে বারের সভাপতি বলেন, এখনো সেই জরিমানা প্রত্যাহার করা হয়নি। এ বিষয়ে আইনজীবীরা আরও আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানাবেন।
আরএনবি/এআর




