বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। - ফাইল ছবি

বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রিমিয়ার নির্বাহী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির যৌথ আয়োজন করে ‘সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই’ (এসজেএআই) এবং ‘লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড’ (এলইবিএল)। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)।

বিচারকদের সতর্ক করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় এআই ব্যবহার করে ভুয়া প্রমাণ তৈরি কিংবা বিচারকদের প্রভাবিত করার মতো নতুন আইনি সংকট তৈরি হতে পারে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি বা ছবির মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা সম্ভব। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এতে নতুন সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়বেন।’

বিচারিক প্রক্রিয়ায় এআইভিত্তিক অপপ্রচারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো রায় কারও বিপক্ষে গেলে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এআই ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হতে পারে। সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত দায়িত্ব যেহেতু বিচারকের, তাই তাদেরই এ বিষয়ে সবার আগে সচেতন হতে হবে।’

আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী অতীতে সুপ্রিম কোর্টের কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির ওপর প্রমাণের দায় চাপানো কিংবা অস্ত্র আইনের মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষীদের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে বিচার বিভাগ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনি ব্যাখ্যায় পরিবর্তন এনেছে। এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একই ধরনের প্রজ্ঞা ও অভিযোজন ক্ষমতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি খসড়া বিল তৈরির আহ্বান জানান এবং সেটি সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। 

সমাপনী অধিবেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, পাঁচ দিনব্যাপী এই সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য এবং জনপ্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে এআই গভর্নেন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

আরএনবি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর