কক্সবাজারের টেকনাফে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই মামলায় পলাতক থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো চার আসামি হলেন— কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান।
এদিন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদের মধ্যে মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগে থেকেই ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে ছিলেন।
পলাতক যে সাত আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া।
শুনানি শেষে ড. অলি মিয়া বলেন, গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাদের স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানায় খুঁজে পায়নি বলে এনইআর (নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট) দাখিল করেছে। এ কারণে বিধি অনুযায়ী তাদের আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
২০১৮ সালের ২৬ মে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে একরামুল হককে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাতে নোয়াখালিয়া পাড়ায় র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের সময় একরামুলের ফোনে তার পরিবারের সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, অপহরণ, নির্যাতন এবং বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
আরএনবি/এফএ




