মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

৪৩৮ স্থানে হত্যাকাণ্ড, আন্দোলন দমনে ৩ লাখের বেশি গুলি: প্রসিকিউশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
জুলাই আন্দোলনে হত্যাযজ্ঞ। ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে দেশের ৪১ জেলার ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং ৫০টির বেশি জেলায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। ড্রোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করার পর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাবি করা হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ব্যবহার করা হয়েছে ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

আদালতকে তিনি জানান, আন্দোলন দমনে শুধু মাঠপর্যায়ে নয়, আকাশ থেকেও মরণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সারা দেশে মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ব্যবহার করা হয়েছে ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর চায়না রাইফেল, ৭ দশমিক ৬২ মিমি রাইফেল, পিস্তল, এলএমজি, এসএমজি, শটগান ও রিভলভারসহ বিভিন্ন ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করার পর হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে।

যুক্তিতর্ক চলাকালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ভূমিকা তুলে ধরে প্রসিকিউশন জানায়, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে সশস্ত্র হামলা চালানোর পেছনে ছিল তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের উসকানি।

প্রমাণ হিসেবে ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ফোনালাপ এবং পরে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়।

প্রসিকিউটর তামিম আদালতকে বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র হামলায় ওই দিনই তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। সারা দেশে নেতাকর্মীদের হত্যার বৈধতা দিয়েছিলেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। তাদের সে সময়কার প্রতিটি বক্তব্য একেকটি চার্জ হওয়ার যোগ্য।

এদিন ট্রাইব্যুনালে ১৫ জুলাইয়ের হামলার ভিডিও ফুটেজ এবং তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ভিডিও বক্তব্য প্রদর্শন করা হয়।

গত ৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই যুক্তিতর্ক পর্বে এখন পর্যন্ত ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও শেখ ফজলে শামস পরশসহ সাত আসামির অপরাধের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, বুধবার চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে এই পর্বের ইতি টানা হবে।

এরপর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক শুরু করবেন।

আরএনবি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর